ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মিয়ানমারে পাচারের সময় ৩৫ হাজার কেজি সার জব্দ, আটক ২ ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে আশির দশকের ছবি তৈরির ট্রেন্ড, বানাবেন যেভাবে নবম পে-স্কেলের গেজেট কবে, ২০ গ্রেডে কার বেতন কত? ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে, বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ বখাটের উৎপাতের প্রতিবাদে নরসিংদীতে শিক্ষার্থীদের ২ কিলোমিটার পদযাত্রা প্রথম ওয়েব সিরিজেই রহস্যময় চরিত্রে পরিণীতি চোপড়া বাংলা কিউআরে বাড়ছে লেনদেন, সপ্তাহে ছাড়িয়েছে ৭০০ কোটি টাকা ভুল আসন উল্লেখ করায় ডেপুটি স্পিকারকে জামায়াত আমিরের প্রশ্ন বন্যাকবলিত নেপালের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি খেলতে চায় নেপাল ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী, আমন্ত্রণের প্রক্রিয়ায় ঢাকার অসন্তোষ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার বিরোধিতা আনু মুহাম্মদের

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:২০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩ সময় দেখুন

চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থ ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনা, টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির অংশগ্রহণ, বন্দরের সক্ষমতা এবং জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।

চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়ার তৎপরতা নতুন নয় উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, আগেও এ ধরনের চেষ্টা হয়েছে। সরকার পরিবর্তন হলেও বাস্তব কর্মকাণ্ডে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। একই ধরনের বিষয় বারবার ফিরে আসছে এবং অস্বচ্ছতা ও গোপনীয়তার চর্চাও অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বিপিএল প্রতি বছর আয়োজনের পক্ষে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়ার যে উদ্যোগ চলছে, তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন থাকলে সরকারকে যুক্তি ও তথ্য দিয়ে তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। কিন্তু বিভিন্ন প্রশ্নের বিশ্বাসযোগ্য উত্তর দেওয়া হচ্ছে না এবং চুক্তিগুলোও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না।

এনসিটি লাভজনক, মাসুল বাড়ানো নিয়েও প্রশ্ন

আনু মুহাম্মদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এতে রাষ্ট্রের বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির হাতে উদ্বৃত্ত অর্থও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বাঁধনের ওপর হামলা নিয়ে ক্ষোভ, জয়কে নিয়ে আসিফ নজরুলের প্রশ্ন

এমন পরিস্থিতিতে বন্দরের মাসুল বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এ বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে দেশের অর্থনীতির ‘হৃদপিণ্ড’ হিসেবে বিবেচিত এ বন্দরকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ কোনো বন্দরের সঙ্গে তুলনা করা যায় না।

সক্ষমতা বাড়াতে কাস্টমস সংস্কারের পরামর্শ

বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে কাস্টমস ব্যবস্থার সংস্কার, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন আনু মুহাম্মদ।

আরও পড়ুনঃ  সাত উইকেট নিয়ে কেন্টকে জেতালেন হাসান মাহমুদ, হলেন ম্যাচসেরা

তার মতে, বিদেশি কোম্পানি নিয়ে আসার সঙ্গে এসব সমস্যার সমাধানের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার দাবি

আলোচনাসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর নামে বিদেশি অপারেটরের হাতে টার্মিনাল তুলে দেওয়ার আগে দেশের প্রকৃত সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ চাহিদা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন থাকলেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

বিদেশি অপারেটরের হাতে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দেওয়ার আগে চুক্তির সব শর্ত, সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব জনগণের সামনে প্রকাশেরও দাবি জানান তারা।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মিয়ানমারে পাচারের সময় ৩৫ হাজার কেজি সার জব্দ, আটক ২

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার বিরোধিতা আনু মুহাম্মদের

আপডেটের সময়: ০৯:২০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থ ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মিডিয়া অ্যান্ড সিভিল রাইটস সোসাইটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনা, টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির অংশগ্রহণ, বন্দরের সক্ষমতা এবং জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।

চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি

চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়ার তৎপরতা নতুন নয় উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, আগেও এ ধরনের চেষ্টা হয়েছে। সরকার পরিবর্তন হলেও বাস্তব কর্মকাণ্ডে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। একই ধরনের বিষয় বারবার ফিরে আসছে এবং অস্বচ্ছতা ও গোপনীয়তার চর্চাও অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বিপিএল প্রতি বছর আয়োজনের পক্ষে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়ার যে উদ্যোগ চলছে, তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন থাকলে সরকারকে যুক্তি ও তথ্য দিয়ে তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। কিন্তু বিভিন্ন প্রশ্নের বিশ্বাসযোগ্য উত্তর দেওয়া হচ্ছে না এবং চুক্তিগুলোও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না।

এনসিটি লাভজনক, মাসুল বাড়ানো নিয়েও প্রশ্ন

আনু মুহাম্মদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এতে রাষ্ট্রের বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটির হাতে উদ্বৃত্ত অর্থও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  র‍্যাব বিলুপ্ত, সংসদে এসআরবি বিল পাস

এমন পরিস্থিতিতে বন্দরের মাসুল বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এ বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে দেশের অর্থনীতির ‘হৃদপিণ্ড’ হিসেবে বিবেচিত এ বন্দরকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ কোনো বন্দরের সঙ্গে তুলনা করা যায় না।

সক্ষমতা বাড়াতে কাস্টমস সংস্কারের পরামর্শ

বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে কাস্টমস ব্যবস্থার সংস্কার, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন আনু মুহাম্মদ।

আরও পড়ুনঃ  ইরানের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় বাংলাদেশ: রাষ্ট্রপতি

তার মতে, বিদেশি কোম্পানি নিয়ে আসার সঙ্গে এসব সমস্যার সমাধানের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার দাবি

আলোচনাসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর নামে বিদেশি অপারেটরের হাতে টার্মিনাল তুলে দেওয়ার আগে দেশের প্রকৃত সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ চাহিদা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন থাকলেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

বিদেশি অপারেটরের হাতে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দেওয়ার আগে চুক্তির সব শর্ত, সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব জনগণের সামনে প্রকাশেরও দাবি জানান তারা।