গাজীপুরের শ্রীপুরে চাঁদার দাবিতে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে জেলা শ্রমিকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শরীফ সরকার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে গ্যাসের চুলায় গরম করা লোহার রড দিয়ে শরীরের শতাধিক স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী সজীব মিয়া (৩০) গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি দেওচালা গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে। অভিযুক্ত শরীফ সরকার (৪৩) মাওনা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং জেলা শ্রমিকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
চাঁদা দাবির পর তুলে নেওয়ার অভিযোগ
সজীবের বাবা কফিল উদ্দিন অভিযোগ করেন, গত ২১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে এমসি বাজারে তার ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শরীফ সরকার ও তার সহযোগীরা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। সজীব টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মারধর করে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেওয়া হয়।
তার দাবি, পরে স্বপ্নপুরী হোটেলসংলগ্ন একটি নির্যাতনকেন্দ্রে নিয়ে রাতভর সজীবের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। ছেলেকে উদ্ধারে গেলে তাকেও বাধা দেওয়া হয় এবং স্বজন আনিছকে মারধর করা হয়।
‘১০০ জায়গায় ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে’
সজীবের মা খালেদা আক্তার বলেন, তার ছেলের শরীরের প্রায় প্রতিটি অংশে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। শরীরের শতাধিক স্থানে গরম লোহার রড দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে এবং হাত, পা ও কোমরে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের হুমকির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করতে পারেননি বলেও জানান তিনি।
পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ
পরিবারের অভিযোগ, রাতভর নির্যাতনের পর সজীবকে আওয়ামী লীগের নেতা ও হত্যা মামলার আসামি পরিচয় দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ তাকে হাসপাতালে নেয়। আদালতে হাজির করা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে আদালত তাকে গ্রহণ না করে চিকিৎসার নির্দেশ দেন।
অভিযুক্তের দাবি
অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রমিকদল নেতা শরীফ সরকার বলেন, সজীব বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি হত্যা মামলার আসামি। বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। মারধরের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারেননি এবং দাবি করেন, তারা তাকে নির্যাতন করেননি।
পুলিশ যা বলছে
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, সজীবকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। তিনি স্বীকার করেন, সজীব একটি হত্যা মামলার আসামি হলেও তাকে এভাবে মারধর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি জানান, ভুক্তভোগীর মা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জেলা শ্রমিকদলের সদস্যসচিব আবুল কালাম প্রধান বলেন, শরীফ সরকারের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন বিতর্কিত অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির দায় দল নেবে না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদকের নাম 


























