জিম্বাবুয়ে সফরে ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণ হিসেবে কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে না পারাকেই বড় কারণ হিসেবে দেখছেন জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। স্বাগতিক পেসারদের বাড়তি গতি ও বাউন্স বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
পূর্ণাঙ্গ সিরিজ শেষে বুধবার সকালে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সফরের পারফরম্যান্স ও ব্যর্থতার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন আশরাফুল।
বাড়তি বাউন্সে মানিয়ে নিতে সময় লেগেছে
জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনে বাংলাদেশের ব্যাটারদের সমস্যার জায়গা ছিল অতিরিক্ত বাউন্স—এমনটাই মনে করেন জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ।
তিনি বলেন, “অতিরিক্ত বাউন্স ছিল, ওই বাউন্সে মানিয়ে নিতে আমাদের একটু সময় লেগেছে। টেস্ট ম্যাচটা আমরা ভালো করতে পারিনি। পরে তৃতীয় ওয়ানডেতে গিয়ে আমরা মানিয়ে নিতে পেরেছি।”
২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির প্রসঙ্গ তুলে আশরাফুল বলেন, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।
তিনি বলেন, “সামনে ২০২৭ বিশ্বকাপে আমরা এ ধরনের কন্ডিশনের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারব।”
প্রস্তুতি ম্যাচ থাকলে সুবিধা হতো
জিম্বাবুয়ে সফরের আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকলে দলের মানিয়ে নেওয়া আরও সহজ হতো বলে মনে করেন আশরাফুল।
তার মতে, নতুন কন্ডিশন ও উইকেটের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে প্রস্তুতি ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সফরের পুরো সময়জুড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগ প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি। কোনো ব্যাটারই সেঞ্চুরির দেখা পাননি।
তিন ফরম্যাটেই কঠিন পরীক্ষা
জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর একপর্যায়ে তিন ফরম্যাটেই হারের শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ।
তবে শেষ টি-টোয়েন্টিতে নাটকীয় এক ম্যাচে ৪ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে সেই শঙ্কা কাটায় টাইগাররা। যদিও পুরো সফরে ব্যাটিং বিভাগের দুর্বলতা ছিল বড় আলোচনার বিষয়।
সামনে অস্ট্রেলিয়া সফরের চ্যালেঞ্জ
জিম্বাবুয়ে সফরের পর বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় পরীক্ষা। আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আশরাফুল আশা করছেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে ভালো করবে দল।
তিনি বলেন, “অস্ট্রেলিয়ায় আমরা প্রায় ১০ দিন আগে যাচ্ছি। ওখানে তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ আছে। আশা করি, খেলোয়াড়রা ভালো করবে।”
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। এরপর ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।
২০০৩ সালের পর এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
প্রতিবেদকের নাম 


























