অসুস্থ বাবার চিকিৎসা ও পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার যুবক শান্ত মণ্ডল। কিন্তু মানবপাচারকারী দালালচক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে অবৈধভাবে ইরানে নেওয়ার পথে সেনাবাহিনীর গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। মৃত্যুর মুখ থেকে দেশে ফিরলেও এখন ব্যয়বহুল চিকিৎসা, ঋণের বোঝা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সঙ্গে লড়ছে তার পরিবার।
শান্ত মণ্ডল কালুখালী উপজেলার সাওরাইল ইউনিয়নের কুমড়িরানী গ্রামের মো. শিরু মণ্ডলের ছেলে। সম্প্রতি এসএসসি পাস করার পর অসুস্থ বাবার চিকিৎসা ও সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। দালালদের সঙ্গে সাড়ে সাত লাখ টাকায় চুক্তি করে গত ২০ এপ্রিল দুবাইয়ের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন।
পরিবারের অভিযোগ, দুবাই পৌঁছানোর পর শান্তকে পাকিস্তানের করাচিতে নিয়ে একটি কক্ষে জিম্মি করে রাখা হয়। সেখানে পরিবারের কাছ থেকে আরও প্রায় আড়াই লাখ টাকা আদায় করা হয়। পরে নদী, সমুদ্র, পাহাড় ও সড়কপথ পেরিয়ে সাত দিন ধরে শান্তসহ কয়েকজন বাংলাদেশিকে অবৈধভাবে ইরানে নেওয়া হয়।
পরিবার জানায়, ইরানের স্পান শহর অতিক্রম করে তেহরানের পথে তাদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাসকে সেনাবাহিনী থামার সংকেত দেয়। চালক পালানোর চেষ্টা করলে সেনাবাহিনীর গুলিতে শান্তর বাম বুকের পাঁজর ও বাম হাতে গুলি লাগে। পরে বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম)-এর সহযোগিতায় গত ৩০ জুন দেশে ফেরেন তিনি।
চিকিৎসকদের মতে, গুলির আঘাতে শান্তর প্লীহা (স্প্লিন) অপসারণ করতে হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও তিন থেকে চার লাখ টাকার চিকিৎসা প্রয়োজন।
শান্তর বাবা মো. শিরু মণ্ডল বলেন, ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। আশা ছিল, সে উপার্জন করে সংসারের হাল ধরবে এবং তার বাবার চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে। এখন উল্টো ছেলের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি দালালদের বিচার এবং নেওয়া টাকা ফেরতের দাবি জানান।
মা সাবিনা বেগম বলেন, ভালো ভবিষ্যতের আশায় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সে গুলিবিদ্ধ হয়ে ফিরে এসেছে। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ, অন্তত ছেলেকে জীবিত ফিরে পেয়েছি। এখন তার চিকিৎসার জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
শান্তর বড় বোন লাবনী জানান, পাকিস্তানে আটকে রাখার সময় তারা বারবার দালালদের কাছে ভাইকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাদের কোনো আবেদন শোনা হয়নি। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শান্তর প্লীহা অপসারণ করতে হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, উন্নত চিকিৎসা ছাড়া তার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা কঠিন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত রবিউল ইসলামের মা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ছেলে কোনো দালাল নন। তুফান নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে শান্ত ও তাদের এক আত্মীয়কে বিদেশে পাঠানো হয়। তার দাবি, টাকা লেনদেন এবং পাকিস্তানে আটকে রেখে অর্থ আদায়ের সঙ্গে তুফান ও তার পরিবারের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে।
এ বিষয়ে কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















