ঢাকা ০৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সাক্কারায় ৪৩০০ বছরের পুরোনো সমাধির সন্ধান, মিলল প্রাচীন মিসরের নতুন তথ্য হরমুজের পর আরব সাগরেও নিষিদ্ধ অঞ্চল বাড়াচ্ছে ইরান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটিতে সানসিলা জেবরিন ছয় মাসে রেলওয়ের আয় বেড়েছে ২২৫ কোটি টাকা শুভশ্রীর ‘এমনি’ ক্যাপশন ঘিরে দেব-ভক্তদের কৌতূহল এশিয়ান গেমস শুরুর ১০ দিন আগে বন্যায় বিপর্যস্ত আইচি-নাগোয়া পরিবেশদূষণ রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ ফ্যামিলি কার্ডের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, এনসিপি নেত্রী কারাগারে মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ঝুঁকিপূর্ণ, ৪৬ পিয়ারে ফাটল
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

দেশে ৫০-৮০ লাখ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান, নিয়ন্ত্রণে আসছে নীতিমালা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:৪২:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯ সময় দেখুন

দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও অনুরূপ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান চলাচল করছে। এসব যান দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ বা তারও বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে বলে সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

অন্যদিকে, বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা মাত্র ৩ হাজার ৩০০টি। সরকারের ধারণা, শুধু ঢাকাতেই ৪৮ হাজারের বেশি অনানুষ্ঠানিক বা অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। এসব অবৈধ সংযোগের কারণে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বাড়ছে চাপ

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংসদে কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধিতে বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য রেহানা আক্তার রানুর আনা জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান নগর ও গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কম ভাড়া ও সহজলভ্যতার কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে এসব যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তবে অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের ফলে বিপুলসংখ্যক যান একসঙ্গে চার্জ দেওয়ায় স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। অনুমোদিত বা আবাসিক সংযোগের বাণিজ্যিক ব্যবহার, ট্রান্সফরমার ও বিতরণ লাইনে বাড়তি লোড এবং পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  গ্যাস সংকট কাটলেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

বছরে ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির দাবি

সরকারের হিসাবে, অবৈধ চার্জিং পয়েন্টে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

রেহানা আক্তার রানু তার নোটিশে বলেন, অটোরিকশা সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য বাহন হলেও এসব যানকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি অটোরিকশায় নম্বর প্লেট সংযোজন, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের আওতায় আনা এবং প্রধান সড়ক থেকে এসব যান সরিয়ে অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় অটোরিকশার অংশ ১৩.৫৪ শতাংশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা চলাচল যানজটের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।

তার দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯১১ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় যুক্ত যানবাহনের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অংশ ছিল ১৩.৫৪ শতাংশ।

অনিবন্ধিত যান, অপ্রশিক্ষিত চালক, ত্রুটিপূর্ণ নকশা, ব্রেক ও আলো ব্যবস্থার ত্রুটি, অতিরিক্ত গতি এবং মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচলকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

আরও পড়ুনঃ  মৈত্রী-বন্ধন-মিতালী ট্রেন চালু নিয়ে মঙ্গলবার বৈঠক

ব্যাটারির সিসাদূষণ নিয়েও উদ্বেগ

অটোরিকশায় ব্যবহৃত লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির অনিরাপদ ব্যবস্থাপনা ও অনানুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের কারণে সিসাদূষণ, মাটি ও পানিদূষণ বাড়ছে। এতে বিশেষ করে শিশু শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষি ও পোল্ট্রি শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ঢাকায় বাড়ছে এআই ক্যামেরার ব্যবহার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে বর্তমানে ৫০টি এআইভিত্তিক ক্যামেরা চালু রয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে।

এর ধারাবাহিকতায় রমনা ও তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগে আরও ২০০টি এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতেও এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নীতিমালা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অটোরিকশাকে সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে।

নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে অনুমোদিত অটোরিকশাকে নম্বর প্লেট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। চালকদের নিবন্ধনের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দিয়ে লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুনঃ  বাবাকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিলেন ফখরুল কন্যা

এ ছাড়া নির্ধারণ করা হবে চলাচলের সড়ক। যানবাহনের সংখ্যা, রুট, চালক ও চলাচল ব্যবস্থাপনাও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। একটি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে যাতে একাধিক অটোরিকশা চালানো না যায়, সে ব্যবস্থাও করা হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যাটারি ও যানবাহন ট্র্যাক করার ব্যবস্থার কথাও জানান মন্ত্রী।

কর্মসংস্থান ব্যাহত না করে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য

রেহানা আক্তার রানু বলেন, তিনি অটোরিকশা নিষিদ্ধ করার কথা বলেননি; বরং এসব যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছেন। অটোরিকশার সঙ্গে বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া বাহন জব্দ, ডাম্পিং বা চালকদের হয়রানি না করার আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং নীতিমালা ও বিধি প্রণয়নের অগ্রগতি হয়েছে। কর্মসংস্থান যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, পরিবেশ রক্ষা হয় এবং যানবাহনের শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হয়—সবদিক বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য বেকারত্ব না বাড়িয়ে ও কর্মসংস্থান ব্যাহত না করে পরিবেশ রক্ষা এবং বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানবাহনের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করা।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সাক্কারায় ৪৩০০ বছরের পুরোনো সমাধির সন্ধান, মিলল প্রাচীন মিসরের নতুন তথ্য

দেশে ৫০-৮০ লাখ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান, নিয়ন্ত্রণে আসছে নীতিমালা

আপডেটের সময়: ০৮:৪২:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও অনুরূপ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান চলাচল করছে। এসব যান দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ বা তারও বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে বলে সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

অন্যদিকে, বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা মাত্র ৩ হাজার ৩০০টি। সরকারের ধারণা, শুধু ঢাকাতেই ৪৮ হাজারের বেশি অনানুষ্ঠানিক বা অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। এসব অবৈধ সংযোগের কারণে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বাড়ছে চাপ

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংসদে কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধিতে বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য রেহানা আক্তার রানুর আনা জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান নগর ও গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কম ভাড়া ও সহজলভ্যতার কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে এসব যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তবে অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের ফলে বিপুলসংখ্যক যান একসঙ্গে চার্জ দেওয়ায় স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। অনুমোদিত বা আবাসিক সংযোগের বাণিজ্যিক ব্যবহার, ট্রান্সফরমার ও বিতরণ লাইনে বাড়তি লোড এবং পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ২০৩০ সালে ৫৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্য, গ্রিডের বাইরে থাকবে সংসদ

বছরে ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির দাবি

সরকারের হিসাবে, অবৈধ চার্জিং পয়েন্টে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

রেহানা আক্তার রানু তার নোটিশে বলেন, অটোরিকশা সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য বাহন হলেও এসব যানকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি অটোরিকশায় নম্বর প্লেট সংযোজন, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের আওতায় আনা এবং প্রধান সড়ক থেকে এসব যান সরিয়ে অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় অটোরিকশার অংশ ১৩.৫৪ শতাংশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা চলাচল যানজটের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।

তার দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯১১ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় যুক্ত যানবাহনের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অংশ ছিল ১৩.৫৪ শতাংশ।

অনিবন্ধিত যান, অপ্রশিক্ষিত চালক, ত্রুটিপূর্ণ নকশা, ব্রেক ও আলো ব্যবস্থার ত্রুটি, অতিরিক্ত গতি এবং মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচলকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

আরও পড়ুনঃ  বিশ্ববাজারে কমল স্বর্ণের দাম, দেশের বাজারেও সমন্বয়ের আভাস

ব্যাটারির সিসাদূষণ নিয়েও উদ্বেগ

অটোরিকশায় ব্যবহৃত লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির অনিরাপদ ব্যবস্থাপনা ও অনানুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের কারণে সিসাদূষণ, মাটি ও পানিদূষণ বাড়ছে। এতে বিশেষ করে শিশু শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষি ও পোল্ট্রি শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ঢাকায় বাড়ছে এআই ক্যামেরার ব্যবহার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে বর্তমানে ৫০টি এআইভিত্তিক ক্যামেরা চালু রয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে।

এর ধারাবাহিকতায় রমনা ও তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগে আরও ২০০টি এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতেও এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নীতিমালা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অটোরিকশাকে সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে।

নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে অনুমোদিত অটোরিকশাকে নম্বর প্লেট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। চালকদের নিবন্ধনের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দিয়ে লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুনঃ  বাবাকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিলেন ফখরুল কন্যা

এ ছাড়া নির্ধারণ করা হবে চলাচলের সড়ক। যানবাহনের সংখ্যা, রুট, চালক ও চলাচল ব্যবস্থাপনাও নিয়ন্ত্রণ করা হবে। একটি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে যাতে একাধিক অটোরিকশা চালানো না যায়, সে ব্যবস্থাও করা হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যাটারি ও যানবাহন ট্র্যাক করার ব্যবস্থার কথাও জানান মন্ত্রী।

কর্মসংস্থান ব্যাহত না করে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য

রেহানা আক্তার রানু বলেন, তিনি অটোরিকশা নিষিদ্ধ করার কথা বলেননি; বরং এসব যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছেন। অটোরিকশার সঙ্গে বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া বাহন জব্দ, ডাম্পিং বা চালকদের হয়রানি না করার আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং নীতিমালা ও বিধি প্রণয়নের অগ্রগতি হয়েছে। কর্মসংস্থান যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, পরিবেশ রক্ষা হয় এবং যানবাহনের শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হয়—সবদিক বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য বেকারত্ব না বাড়িয়ে ও কর্মসংস্থান ব্যাহত না করে পরিবেশ রক্ষা এবং বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানবাহনের সুশৃঙ্খল চলাচল নিশ্চিত করা।