জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজের পর নতুন সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করা হলেও সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সেমিনারে বাইরে থেকে সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া করতে হচ্ছে। এতে প্রতিটি আয়োজনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সহযোগিতায় জবির কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের সংস্কারকাজ করা হয়। সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সেখানে উন্নতমানের নতুন সাউন্ড সিস্টেমও স্থাপন করা হয়। তবে স্থাপনের পর থেকে সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে না।
ডিএসসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী অডিটোরিয়ামের সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামগুলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সেমিনারেও ভাড়া করতে হচ্ছে সাউন্ড সিস্টেম
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অডিটোরিয়ামে নতুন সাউন্ড সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও ছোটখাটো সেমিনার ও অফিসিয়াল অনুষ্ঠানেও বাইরে থেকে সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া করতে হচ্ছে। দুই থেকে তিন ঘণ্টার একটি অনুষ্ঠানে এ বাবদ প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়।
বড় ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই খরচ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছায় বলেও জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সাউন্ড সিস্টেমটি সচল করা গেলে নিয়মিত এই অতিরিক্ত ব্যয় অনেকটাই কমানো সম্ভব।
নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় বন্ধ রাখার দাবি
কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের অপারেটর শেকড় আহমেদ বলেন, নতুন সাউন্ড সিস্টেম চালু করতে হলে এর ব্যবহার ও পরিচালনা নিয়ে নীতিমালা প্রয়োজন। নীতিমালা ছাড়া ব্যবহার করলে অব্যবস্থাপনার কারণে সিস্টেমটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, অডিটোরিয়ামের অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় পডিয়াম মাইক্রোফোনও তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ওই মাইক্রোফোন ছাড়া পূর্ণাঙ্গভাবে অফিসিয়াল অনুষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ার দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার সাহা বলেন, নতুন সাউন্ড সিস্টেমটি সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে বুঝে নেওয়া হয়েছে। তবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ট্রেজারারের নির্দেশে এটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, অনুমতি পাওয়া গেলে সাউন্ড সিস্টেমটি দ্রুত চালু করা সম্ভব।
চালু থাকার কথা জানতেন প্রধান প্রকৌশলী
তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি জানান, নতুন সাউন্ড সিস্টেমটি চালু রয়েছে এবং সেটি দিয়েই অডিটোরিয়ামের অনুষ্ঠানগুলো পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি জানতেন।
বিষয়টি জানার পর তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
একই প্রতিষ্ঠানের সাউন্ড সেবা নিয়ে প্রশ্ন
জানা গেছে, বর্তমানে অডিটোরিয়ামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিয়মিত সাউন্ড সিস্টেমের সেবা দিয়ে আসছে। প্রতিটি অনুষ্ঠানে এ বাবদ প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বড় অনুষ্ঠান হলে ব্যয় আরও বাড়ছে।
এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নতুন সাউন্ড সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও কেন সেটি ব্যবহার না করে নিয়মিত বাইরে থেকে সেবা নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠান অডিটোরিয়ামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেমের সেবা দিয়ে আসছে। এ কারণে নিজস্ব সিস্টেম ব্যবহার না করে বাইরে থেকে সেবা নেওয়ার পেছনে কোনো আর্থিক স্বার্থ বা অনিয়ম রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
তবে কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সাউন্ড সিস্টেম চালু, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিজস্ব সরঞ্জাম ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে অডিটোরিয়ামের ব্যবস্থাপনাতেও স্বচ্ছতা বাড়বে।
প্রতিবেদকের নাম 




















