নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীতে চালু হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন রুটে গোলাপি রঙের এসব ‘পিংক বাস’ চলাচল করতে দেখা গেছে।
প্রাথমিকভাবে ১০টি বাস নিয়ে এই সেবা চালু করেছে বিআরটিসি। এর মধ্যে একটি একতলা ও নয়টি দ্বিতল বাস। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুটে এসব বাস চলাচল করছে। রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুনবাজার-মতিঝিল, তালতলা-মতিঝিল, ডেমরা-জিপিও, মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১২ থেকে মতিঝিল, মোহাম্মদপুর-মতিঝিল এবং আব্দুল্লাহপুর-মতিঝিল। এছাড়া গাজীপুর-বিমানবন্দর রুটেও পিংক বাস চালু করা হয়েছে।
দুই শিফটে পরিচালিত হচ্ছে বিশেষ এই বাস সার্ভিস। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে নির্ধারিত স্টপেজ থেকে বাসগুলো যাত্রা শুরু করে। এরপর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে মতিঝিল বাস ডিপো থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে বাস ছেড়ে যায়।
চালকের চোখে প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা
পিংক বাসের চালকদের মধ্যে রয়েছেন রাবেয়া সুলতানা। প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি জানান, মোটের ওপর বাস চালানোর অভিজ্ঞতা ভালোই ছিল।
তবে প্রথম দিনে কিছুটা সময় বেশি লেগেছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, চালকদের অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে কোথাও কোথাও যাত্রায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। সময়ের সঙ্গে এ সমস্যা কাটিয়ে উঠে সেবার মান আরও উন্নত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
শুধু চালকই নন, বাসে নারী কন্ডাক্টরও দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে নারীদের জন্য আলাদা এই পরিবহন ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য—দুই দিকেই গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া
প্রথম দিন পিংক বাসে চলাচল করা নারী যাত্রীদের অনেকেই নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াতের সুযোগ পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে গণপরিবহনে নারীদের বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির মধ্যে আলাদা এই বাস সার্ভিসকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন তারা।
তবে সেবার প্রথম দিন হওয়ায় কিছু যাত্রী কয়েকটি অসুবিধার কথাও জানিয়েছেন। রুট, সময়সূচি ও পরিচালন ব্যবস্থায় আরও সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই নারীদের মধ্যে পিংক বাস নিয়ে আগ্রহ দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুরুর দিকের সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করে ধীরে ধীরে সেবার মান উন্নত করা হবে। এর মাধ্যমে রাজধানীতে নারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ গণপরিবহনের একটি কার্যকর বিকল্প তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















