কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে প্রশ্ন ফাঁস এবং পরীক্ষার আগের রাতে পূর্বপ্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সাবেক আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হোসেন ইমামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে মামলাটি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠিতে হোসেন ইমামকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত কিংবা বিধি অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অধীনে ১২৫টি শূন্য পদে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের জন্য ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর সকালে শহরের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযোগ ওঠে, পরীক্ষার আগের দিন ২৩ অক্টোবর গভীর রাতে অর্থের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ ৩০ থেকে ৪০ জন চাকরিপ্রার্থীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তৎকালীন আরএমও হোসেন ইমামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে ফাঁস হওয়া প্রশ্নে তাদের পূর্বপ্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ওই বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কথিত চাকরিপ্রার্থীরা ভোররাতে বাড়িটি থেকে বের হয়ে পালিয়ে যান। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন
ঘটনার পর পরীক্ষার্থী ও স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তদন্তে প্রশ্ন ফাঁসসহ পরীক্ষার আগের রাতে পূর্বপ্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এরপর অভিযুক্ত আরএমও হোসেন ইমামকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়। এবার তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হলো।
এখনো হয়নি পরীক্ষার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
এদিকে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রায় নয় মাস পার হলেও পরীক্ষা বাতিল কিংবা ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন জানান, নিয়োগ পরীক্ষাটি দ্রুত বাতিল হতে পারে। এরপর নতুন করে সার্কুলার জারি করে স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষা নেওয়া এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















