
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ধরলা নদীর তীব্র স্রোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কালভার্ট ধসে প্রায় ৫০ ফুট রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে তিনটি আবাসনসহ অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবারের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে ধরলা নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পায়। পানির তীব্র স্রোতের চাপে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চরগোরকমন্ডল এলাকায় সোমবার গভীর রাতে কালভার্টটি ধসে পড়ে। একই সঙ্গে সড়কের দুই পাশের প্রায় ৫০ ফুট অংশ ভেঙে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়।
এই সড়কটি আনন্দবাজার থেকে চরগোরকমন্ডল এলাকার প্রধান যোগাযোগপথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কালভার্ট ধসে পড়ার পর থেকে মোটরসাইকেল, ভ্যান ও অটোরিকশাসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প পথে যাতায়াত করছেন, এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধরলা নদীর তীরে স্থায়ী বাঁধ বা টেকসই সেতুর দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সামান্য বৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধিতেই বারবার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে বলে তারা জানান।
দুর্ভোগে সবচেয়ে বেশি পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও কর্মজীবী মানুষ। অনেক শিক্ষার্থীকে কোমরসমান পানি ও ভাঙা রাস্তা পেরিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে, আবার জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসন বলছে, আপাতত বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে এবং ভবিষ্যতে সেখানে স্থায়ী সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে পুরো এলাকা কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে, এবং দ্রুত মেরামত না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















