
ফেনীর মুহুরী–কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পটি ১,৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সম্প্রতি বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফেনী জেলার দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছর অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও ফেনী সদরসহ বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি, ব্যাপক সম্পদহানি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপর্যয় ঘটে। কৃষিজমি, মাছের ঘের, পুকুর ও গ্রামীণ অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে।
নতুন প্রকল্পের আওতায় নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, বাঁধ পুনর্বাসন, নদী তীর সংরক্ষণ, খনন কাজ এবং সেচ অবকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্য ও পোল্ট্রি খাতে উন্নতি এবং সেচ সুবিধার সম্প্রসারণ ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ১১.৭৩ কিলোমিটার নদী তীর প্রতিরক্ষা, ৬৭.৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ৮৩.৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার খনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন, ৭৭টি ইনলেট ও একটি হাইড্রোলিক এলিভেটেড ড্যাম নির্মাণ।
স্থানীয় জনগণ দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান চেয়ে টেকসই ও মানসম্মত বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, প্রকল্পটি যেন স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং দুর্নীতি মুক্ত থাকে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে কাজ শুরু হয়ে ২০৩১ সালের জুনে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ফেনীর লক্ষ লক্ষ মানুষ বন্যার ঝুঁকি থেকে স্থায়ীভাবে উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















