এপেক্স ফার্মা নামে একটি বেসরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের এক নারী মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার, বেআইনি চাকরিচ্যুতি, বেতন বঞ্চনা ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে তিনি মানবাধিকার সংস্থা ‘রাইটস যশোর’-এর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
অভিযোগকারী ওই নারী জানান, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল তিনি এপেক্স ফার্মায় মেডিকেল প্রমোশন অফিসার পদে যোগ দেন। নিয়োগপত্র অনুযায়ী তার মাসিক বেতন ছিল ২০ হাজার টাকা এবং টিএ-ডিএ বাবদ ৭ হাজার টাকা পাওয়ার কথা ছিল। এছাড়া নির্ধারিত টার্গেট পূরণ করলে অতিরিক্ত ভাতার ব্যবস্থাও ছিল।
তার অভিযোগ, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার সেলিম রেজা তাকে বিভিন্ন সময়ে অশালীন ও অনৈতিক প্রস্তাব দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তার মাধ্যমেও এসব প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগে তিনি বলেন, ওই কর্মকর্তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। পরে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে একটি সতর্কীকরণ চিঠি দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এর প্রমাণ তার কাছে রয়েছে।
নারীকর্মীর আরও অভিযোগ, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তার বেতনের একটি অংশ কেটে রাখা হয়। বিষয়টি জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিভিন্ন অজুহাত দেখান এবং পরে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলেও তা আর দেওয়া হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রস্তাবে রাজি হলে বকেয়া টাকা ফেরত, চাকরি নিরাপদ রাখা এবং বেতন বাড়ানোর ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছিল। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
অভিযোগকারী বলেন, তিনি শুধু নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই তার প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আচরণ পরিবর্তন হয় এবং তাকে চাকরি হারাতে হয়।
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বকেয়া বেতন পরিশোধ, বেআইনি চাকরিচ্যুতির প্রতিকার এবং যৌন হয়রানির অভিযোগের বিচার দাবি করেছেন। প্রয়োজনে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এপেক্স ফার্মার রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার সেলিম রেজা তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অভিযোগকারী মিথ্যাচার করছেন।
হোয়াটসঅ্যাপের কথোপকথনের স্ক্রিনশট প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার ছবি ব্যবহার করে অন্য কোনো নম্বর থেকে এসব বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলো সম্পাদিত (এডিটেড)। এ ঘটনায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।
সেলিম রেজার ভাষ্য, চুক্তিপত্র অনুযায়ী ওই নারীকর্মী তার যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাইটস যশোরের ডেপুটি ম্যানেজার এসএম আজহারুল ইসলাম বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি এখনো উদ্বেগের। এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে রাইটস যশোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
প্রতিবেদকের নাম 


























