রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালে যানজট ও বিশৃঙ্খলা কমানোর পাশাপাশি বাসে অগ্নিসংযোগ ঠেকাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। টার্মিনালে অলস বাস না রেখে সেগুলো পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকার নির্ধারিত ডিপোতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিটি বাসে ফায়ার এক্সটিংগুইশার রাখার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় উঠে আসে।
সভায় ডিএমপির ট্রাফিক গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার তারেক জুবায়ের বলেন, মহাখালী এলাকার যানজট কমাতে পুলিশ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাসে ছোট আকারের ফায়ার এক্সটিংগুইশার রাখা হলে আগুনের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। এ জন্য প্রতিটি বাসে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ডিএমপির ট্রাফিক উত্তর বিভাগের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার আ স ম শামসুর রহমান ভূঁঞা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বাসে আগুন এবং বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পরিবহন সংশ্লিষ্টদের আরও সচেতন করতে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি বলেন, অলস সময়ে বাসগুলো সম্ভব হলে টার্মিনালের ভেতরে রাখতে হবে। বাইরে রাখতে হলে চালক, হেলপার কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের গাড়ির দিকে নজর রাখতে হবে। নির্জন বা দূরবর্তী স্থানে রাখা যানবাহন অগ্নিসংযোগের ঝুঁকিতে বেশি থাকে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহাখালী বাস টার্মিনালের ডিপো পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। সেখানে প্রায় ১৫০টি বাস রাখার অবকাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাসগুলো সেখান থেকে টার্মিনালে এসে যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন মহাখালীতে বিপুলসংখ্যক বাস আসে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে টার্মিনাল এলাকায় যানজট ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে অতিরিক্ত বাসগুলো সাময়িকভাবে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, মহাখালী বাস টার্মিনালকে ডিপো হিসেবে ব্যবহার না করে মূলত যাত্রী ওঠানামার কাজে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে টার্মিনাল এলাকায় যানজট ও বিশৃঙ্খলা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















