বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। গত এক বছরে আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি ঋণের অর্থছাড় কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগীর কাছ থেকে নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতিও মিলছে না।
পরিকল্পনা কমিশনের মতে, প্রকল্প যাচাই-বাছাই করে ঋণ নেওয়ার নীতির কারণে আপাতত অর্থপ্রবাহ কিছুটা কমেছে। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেছিল। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে সেই পরিমাণ আরও বেড়ে প্রায় ৪১৩ কোটি (৪.১৩ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছেছে। পরিশোধ করা অর্থের বড় অংশ গেছে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং জাপানের কাছে।
ইআরডির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। আগের লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) চুক্তির আওতায় বিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাসে প্রায় ২৫ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে।
একইভাবে রাশিয়াও নতুন কোনো ঋণ অনুমোদন করেনি। তবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের চলমান অর্থায়ন অব্যাহত রয়েছে। জাপান আগের প্রতিশ্রুত ঋণের ৪৩ কোটি ডলার ছাড় করেছে। অন্যদিকে বেইজিংভিত্তিক এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) থেকেও নতুন অর্থায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মনজুর হোসেন বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮০ বিলিয়ন (৮ হাজার কোটি) ডলার। প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির কারণে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় ও নতুন প্রতিশ্রুতি কমেছে। তবে বাজেট সহায়তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ব্যাংক খাত সংস্কারে বিশ্বব্যাংক ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিজন নাগরিকের মাথাপিছু বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা।
প্রতিবেদকের নাম 




















