ঢাকা ০২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

ভাঙা সাঁকোয় তিন মাস ধরে দুর্ভোগ, অবরুদ্ধ ২৪০ পরিবারের জীবন

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর দুলালবাড়ি গুচ্ছগ্রামে প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে একমাত্র যাতায়াতের কাঠের সাঁকো। এতে ২৪০টি ভূমিহীন পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পারাপার করতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার খাগডহর চরবাহাদুরপুর গ্রামের ব্রহ্মপুত্র ও সুতিয়া নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা চর দুলালবাড়িতে ২০২০ সালে আশ্রয়ণ (গুচ্ছগ্রাম) প্রকল্পের আওতায় ২৪০টি ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি পরিবারকে দেওয়া হয় দুই শতাংশ করে জমি।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে শুরু হলো বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬

সরেজমিনে দেখা যায়, গুচ্ছগ্রামে প্রবেশের একমাত্র কাঠের সাঁকোটির মাঝের অংশ ভেঙে নদীতে ঝুলে রয়েছে। আশপাশের প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে বিকল্প কোনো পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে ছোট ডিঙি নৌকায় নদী পার হচ্ছেন। প্রতিবার পারাপারে গুনতে হচ্ছে ১০ টাকা ভাড়া।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুধু গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারাই নন, আশপাশের আরও পাঁচ থেকে ছয়শ পরিবারও এই সাঁকো ব্যবহার করতেন। গত ২৮ এপ্রিলের ভারী বৃষ্টিতে সাঁকোটির মাঝের অংশ ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ  শিল্প-অ্যাকাডেমিয়ার সেতুবন্ধনে গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে এইচআর সামিট

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন নৌকায় নদী পার হয়ে খাগডহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে তাদের। প্রতিকূল আবহাওয়া বা নৌকা না পেলে অনেকেই বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, গর্ভবতী নারী বা অসুস্থ রোগী নিয়ে নৌকায় পারাপার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সন্ধ্যার পর নৌকা চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি সময়ে শহরে যাওয়ার কোনো উপায় থাকে না।

আরেক বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, এই সাঁকো শুধু গুচ্ছগ্রামের মানুষ নয়, আশপাশের অনেক মানুষ ব্যবহার করতেন। এখন সবাই দুর্ভোগে আছেন। আমরা দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু চাই।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, খালু গ্রেপ্তার

গুচ্ছগ্রাম সমবায় সমিতির সহসভাপতি সুমন মিয়া বলেন, সাঁকো ভেঙে যাওয়ার পর আমরা অনেকটা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। প্রশাসনের লোকজন এসে পরিদর্শন করেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া—সব ক্ষেত্রেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার পর প্রকৌশলীদের দিয়ে পরিদর্শন করানো হয়েছে। এটি আর মেরামতযোগ্য নয়। সেখানে কীভাবে একটি টেকসই বিকল্প ব্যবস্থা করা যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনা চলছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মহাসড়কে বাড়ছে ডাকাতির দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে যাত্রী ও পরিবহন খাত

ভাঙা সাঁকোয় তিন মাস ধরে দুর্ভোগ, অবরুদ্ধ ২৪০ পরিবারের জীবন

আপডেটের সময়: ১০:২৬:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর দুলালবাড়ি গুচ্ছগ্রামে প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে একমাত্র যাতায়াতের কাঠের সাঁকো। এতে ২৪০টি ভূমিহীন পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পারাপার করতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার খাগডহর চরবাহাদুরপুর গ্রামের ব্রহ্মপুত্র ও সুতিয়া নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা চর দুলালবাড়িতে ২০২০ সালে আশ্রয়ণ (গুচ্ছগ্রাম) প্রকল্পের আওতায় ২৪০টি ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি পরিবারকে দেওয়া হয় দুই শতাংশ করে জমি।

আরও পড়ুনঃ  বন্ধ শিল্পকারখানা চালু ও বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

সরেজমিনে দেখা যায়, গুচ্ছগ্রামে প্রবেশের একমাত্র কাঠের সাঁকোটির মাঝের অংশ ভেঙে নদীতে ঝুলে রয়েছে। আশপাশের প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে বিকল্প কোনো পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে ছোট ডিঙি নৌকায় নদী পার হচ্ছেন। প্রতিবার পারাপারে গুনতে হচ্ছে ১০ টাকা ভাড়া।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুধু গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারাই নন, আশপাশের আরও পাঁচ থেকে ছয়শ পরিবারও এই সাঁকো ব্যবহার করতেন। গত ২৮ এপ্রিলের ভারী বৃষ্টিতে সাঁকোটির মাঝের অংশ ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ  শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী সাময়িক বরখাস্ত

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন নৌকায় নদী পার হয়ে খাগডহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে তাদের। প্রতিকূল আবহাওয়া বা নৌকা না পেলে অনেকেই বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, গর্ভবতী নারী বা অসুস্থ রোগী নিয়ে নৌকায় পারাপার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সন্ধ্যার পর নৌকা চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি সময়ে শহরে যাওয়ার কোনো উপায় থাকে না।

আরেক বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, এই সাঁকো শুধু গুচ্ছগ্রামের মানুষ নয়, আশপাশের অনেক মানুষ ব্যবহার করতেন। এখন সবাই দুর্ভোগে আছেন। আমরা দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু চাই।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, খালু গ্রেপ্তার

গুচ্ছগ্রাম সমবায় সমিতির সহসভাপতি সুমন মিয়া বলেন, সাঁকো ভেঙে যাওয়ার পর আমরা অনেকটা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। প্রশাসনের লোকজন এসে পরিদর্শন করেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া—সব ক্ষেত্রেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার পর প্রকৌশলীদের দিয়ে পরিদর্শন করানো হয়েছে। এটি আর মেরামতযোগ্য নয়। সেখানে কীভাবে একটি টেকসই বিকল্প ব্যবস্থা করা যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনা চলছে।