অবৈধ অভিবাসন এবং আবাসিক ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরবে এক সপ্তাহে ১৪ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ১৩ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা এসপিএ এ তথ্য জানিয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গালফ নিউজ।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৬ হাজার ৯০০ জন আবাসিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে, ৩ হাজার ৯৮২ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে এবং ৩ হাজার ৩৭৮ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হয়েছেন।
এ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আরও ১ হাজার ৫২৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ ইথিওপিয়ার, ৩৬ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, সৌদি আরব থেকে অবৈধভাবে বের হওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় কিংবা কর্মসংস্থানে সহায়তার অভিযোগে আরও ২৪ জনকে আটক করা হয়।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগস্টের শুরু থেকেই অবৈধ অভিবাসন ও বিভিন্ন আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। চলতি মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩১ হাজার ৯২২ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আটক ও আইনগত ব্যবস্থার আওতায় আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ২৯ হাজার ৯৬১ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৯৬১ জন নারী।
মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এরই মধ্যে ১৩ হাজার ৭২৪ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আরও ১৮ হাজার ৮০৮ জনের ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। বাকি ৫ হাজার ৩৮৬ জনকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশে সহায়তা করা কিংবা আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় বা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
এ ধরনের অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন এবং অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধানও রয়েছে।
অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও দেশটির আবাসিক, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন কার্যকর করতে সৌদি আরবজুড়ে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রতিবেদকের নাম 




















