দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি চিকিৎসা পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি জানিয়েছেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে বর্তমানে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ধাপে ধাপে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
উপজেলা পর্যায়ে বাড়বে চিকিৎসাসেবা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নীত করা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শুধু শয্যা সংখ্যা বাড়ানো নয়, চিকিৎসার পরিধিও বিস্তৃত করা হবে। ১৫১ শয্যার হাসপাতালগুলোতে প্রসূতি মায়েদের জন্য আলাদা ২৫ শয্যার ওয়ার্ড এবং শিশুদের জন্য ২০ শয্যার পৃথক ওয়ার্ড রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়েই কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ওষুধ ও চিকিৎসক সংকট সমাধানের উদ্যোগ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে দেশের স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ, চিকিৎসকদের উপস্থিতি এবং রোগীদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে এসব সমস্যার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। চিকিৎসক ও ওষুধের সংকট কাটানোর পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফেরানোর লক্ষ্য
সরকারি হাসপাতালের সেবার মান উন্নত করে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
তার মতে, উপজেলা পর্যায়ে অবকাঠামো ও চিকিৎসাসেবা উন্নত করা গেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বারবার জেলা বা রাজধানীমুখী হতে হবে না।
হাসপাতাল পরিদর্শনে রোগীদের সঙ্গে কথা
পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। তিনি চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার মান, ওষুধ সরবরাহ ও হাসপাতালের খাবারের বিষয়ে খোঁজ নেন।
পরে তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।
প্রতিবেদকের নাম 




















