ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অর্থায়ন দ্রুত এগিয়ে নিতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে (বিবিএ) জানিয়েছে চীনা একটি প্রতিনিধিদল। একই সঙ্গে বিকল্প ঋণদাতা হিসেবে চীনের শানডং প্রদেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক প্রকল্পটিতে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সেতু ভবনে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রকল্পের অর্থায়ন, নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রকল্পটির সার্বিক অর্থায়নের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে চান সেতু বিভাগের সচিব। এ সময় ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেডের (এফডিইই) প্রতিনিধিরা প্রকল্পের অগ্রগতি, অর্থায়ন এবং চলমান নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, যত দ্রুত সম্ভব অর্থায়নসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে চীনের শানডং প্রদেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক বিকল্প ঋণদাতা হিসেবে প্রকল্পটিতে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পান্থকুঞ্জ পার্কের পাশে থাকা আপ-র্যাম্পের নির্মাণকাজ শেষ করে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চীনা প্রতিনিধিদল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অনুরোধ জানান তিনি।
এ ছাড়া ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাগুলোতে দ্রুত আরএফআইডি-ভিত্তিক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিতে চীনা প্রতিনিধিদলকে অনুরোধ করা হয়। এর মাধ্যমে যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নির্মাণকাজের গতি বাড়াতে প্রকল্প এলাকায় অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ঢাকাবাসী যাতে যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পটির সুফল পায়, তা নিশ্চিত করতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও কার্যকরী সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পটি দেশের অন্যতম বড় অবকাঠামোভিত্তিক সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) প্রকল্প। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কাওলা) থেকে শুরু হয়ে কুড়িল, বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও, মগবাজার, কমলাপুর, সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত সড়কপথের সক্ষমতা বাড়ানো এবং যানজট কমানোর লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। প্রবেশ ও বহির্গমনের সংযোগকারী র্যাম্পসহ এর মোট দৈর্ঘ্য ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার।
বৈঠকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে সমন্বিত, সুস্পষ্ট ও সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। নির্মাণকাজ চলাকালে প্রকল্প এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদারের আহ্বানও জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদকের নাম 




















