কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি আদম (আ.)-এর যুগ থেকে প্রচলিত ছিল। পবিত্র কোরআনের সুরা মায়েদা (আয়াত ২৭–৩১)-এ আদম (আ.)-এর দুই সন্তানের কোরবানির ঘটনা উল্লেখ রয়েছে। তবে বিভিন্ন নবীর শরিয়তে কোরবানির পদ্ধতি একরকম ছিল না।
ইসলামি শরিয়তে কোরবানি মূলত ‘মিল্লাতে ইবরাহিমি’র অনুসরণে নির্ধারিত হয়েছে। কোরআন ও সহিহ হাদিসে কোরবানির গুরুত্ব স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তাও হাদিসে এসেছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
যার কোরবানির সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু সে কোরবানি করে না, সে যেন ঈদগাহে উপস্থিত না হয়।
কার ওপর কোরবানি ওয়াজিব?
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে, যদি সে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত) নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়।
নিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়—
- সোনা-রূপা
- নগদ অর্থ
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ
- ব্যবসায়িক পণ্য
- অপ্রয়োজনীয় জমি বা সম্পদ
নিসাব কত?
- স্বর্ণ: সাড়ে ৭ ভরি
- রূপা: সাড়ে ৫২ ভরি
- অথবা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ নগদ/সম্পদ
যদি কারও কাছে এসবের যেকোনো একটির সমপরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
নিসাব পুরো বছর থাকা জরুরি নয়। কোরবানির দিনগুলোতে থাকলেই ওয়াজিব হয়ে যাবে।
যদি কেউ কোরবানির দিন পার করে ফেলেন—
- পশু না কিনে থাকলে: সমপরিমাণ মূল্য সদকা করা ওয়াজিব
- পশু কিনে কোরবানি না করলে: ওই পশু জীবিত সদকা করে দিতে হবে
কোন পশু দিয়ে কোরবানি করা যায়?
উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দিয়ে কোরবানি করা জায়েজ। এর বাইরে অন্য কোনো পশু দিয়ে কোরবানি করা বৈধ নয়।
পশুর বয়সসীমা
- উট: কমপক্ষে ৫ বছর
- গরু/মহিষ: কমপক্ষে ২ বছর
- ছাগল: কমপক্ষে ১ বছর
- ভেড়া/দুম্বা: কমপক্ষে ১ বছর (৬ মাস হলেও যদি দেখতে পূর্ণবয়স্ক মনে হয়, তাহলে জায়েজ)
প্রতিবেদকের নাম 




















