জেন-জি প্রজন্মকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কয়েকদিন পর নিজের অবস্থান বদলেছেন ভারতের বিজেপি সাংসদ ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। তরুণদের নিয়ে কঠোর মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়ার পর এবার তাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ও সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
হিমাচল প্রদেশের মান্ডির এই বিজেপি সাংসদ সম্প্রতি নিট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তরুণদের একাংশের বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে বিক্ষোভকারীদের কিছু মন্তব্যকে অশালীন আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের ‘জেনারেশন গাটার’ বা ‘নর্দমার প্রজন্ম’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আন্দোলনের বিভিন্ন ভিডিও নিয়েও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন কঙ্গনা।
তার ওই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। তরুণ প্রজন্মকে এভাবে আক্রমণ করার জন্য অনেকেই কঙ্গনার বক্তব্যের বিরোধিতা করেন।
তবে শুক্রবার (৭ আগস্ট) একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে কথা বলেন তিনি। কঙ্গনা বলেন, ‘জেন-জি আমাদের দেশের আসল শক্তি এবং এক অর্থে জাতির জন্য এক বিশাল সম্পদ। আমাদের তরুণরা যেভাবে দেশের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের নতুন দূত হিসেবে নিজেদের তুলে ধরছে, তা সত্যিই আনন্দের।’
কঙ্গনার এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ।
সম্প্রতি মুম্বাইয়ের এক অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের প্রশংসা করেন মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, জেন-জি তরুণরা সাধারণত যুক্তিনির্ভর উত্তর প্রত্যাশা করে এবং তাদের মতামত গুরুত্ব দিয়ে শোনা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের বিষয়ে ভাগবতের ইতিবাচক অবস্থানের পর কঙ্গনার আগের মন্তব্য নিয়ে বিজেপির ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি নিজের বক্তব্যের সুর নরম করেছেন বলে ধারণা করছেন তারা।
তবে কঙ্গনার নতুন বক্তব্যকে তার আগের মন্তব্য থেকে সরে আসার স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও, এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদকের নাম 




















