লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম তিনবিঘা করিডর সীমান্তের শূন্যরেখায় বিএসএফের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার পর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে বিজিবি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে হলে তা অবশ্যই শূন্যরেখার ১৫০ গজের বাইরে করতে হবে।
শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ডিএএমপি-৭ এর উপপিলার ১২ নম্বর সংলগ্ন ভারতীয় তিনবিঘা করিডর এলাকায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত বৈঠক চলে।
বৈঠকে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট ভিনোদ রেঢু এবং ৩০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট এস নারায়ণ মিশরা। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজিবি রংপুর-৫১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিএসএফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, শূন্যরেখা থেকে ৫০ গজের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে ৩ ফুট উচ্চতার বাঁশের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবির সদস্যরা অস্ত্র প্রস্তুত করে প্রতিরোধমূলক অবস্থান নেয়, যা বিএসএফ অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করে।
জবাবে বিজিবি জানায়, ১৯৭৪ সালের সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী শূন্যরেখার ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যায় না। বিএসএফ আইন উপেক্ষা করে খুঁটি স্থাপন করায় আত্মরক্ষার জন্য বিজিবি প্রতিরোধমূলক অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।
বৈঠকে বিএসএফ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় জমির ফসল নষ্ট করার অভিযোগ তোলে। এ বিষয়ে বিজিবি জানায়, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ফসল নষ্টের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
এর আগে শুক্রবার দহগ্রাম সীমান্তের তিনবিঘা করিডরের শূন্যরেখার ১০ থেকে ২০ গজের মধ্যে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় শ্রমিকরা পরিমাপ শুরু করেন। এ সময় সীমান্ত আইন না মেনে বাঁশের খুঁটি স্থাপন করতে থাকে বিএসএফ।
বিজিবির পানবাড়ী কোম্পানির কমান্ডার সুবেদার সোলেমান আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধের আহ্বান জানান। তবে বিএসএফ কাজ চালিয়ে গেলে উভয় বাহিনী সীমান্তে প্রতিরোধমূলক অবস্থান নেয়, এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিজিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে শূন্যরেখায় কোনো কাজ শুরুর আগে দুই বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি বিএসএফকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















