বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও নৃতাত্ত্বিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে ‘আদিবাসী’ শব্দটি অপ্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আদিবাসী পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অভিবাসী চিন্তাধারা বা দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বাংলাদেশের জনমিতি ও নৃবৈজ্ঞানিক বাস্তবতা সঠিকভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। তাই ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারের আগে এর প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আমরা আদিবাসী শব্দ ব্যবহার করে কারও পাতানো ফাঁদে পা দিচ্ছি কি না, তা ভেবে দেখতে হবে। এ ধরনের শব্দচয়ন থেকে বিরত থাকাই ভালো।”
বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পরিচয় ও অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম দাবি করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি এ অঞ্চলকে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র বানানোর চেষ্টা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, জুলাই সনদের মূল ভাবনায় সবাই বাংলাদেশি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও দেশের সব নাগরিককে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে যেকোনো সংকট বিএনপি সরকার সমাধান করতে সক্ষম হবে বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খান।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। তিনি জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ অঞ্চলের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বৈঠকে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা, জাতীয় পরিচয় এবং দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অধিকার ও পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আরও আলোচনা ও জাতীয় পর্যায়ে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রতিবেদকের নাম 




















