যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় মার্কিন তুলা ও ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ) ব্যবহার করে তৈরি পোশাকের জন্য শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা।
এই অনিশ্চয়তা দূর করতে এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) গত বুধবার ঢাকার গুলশানে সংগঠনের কার্যালয়ে মার্কিন দূতাবাসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে।
বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের প্রাথমিক টেক্সটাইল শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে বিশেষভাবে বাণিজ্য চুক্তির ধারা ৫.৩ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানায় বিটিএমএ। সংশ্লিষ্ট ধারার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে বাংলাদেশে উৎপাদিত পোশাক যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়ার কথা রয়েছে।
উদ্যোক্তাদের মতে, এ সুবিধা কার্যকর হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অর্জন করবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তুলা ও কৃত্রিম তন্তুর রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, যা দুই দেশের জন্যই পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্ব তৈরি করবে।
তবে চুক্তি স্বাক্ষরের দীর্ঘ সময় পার হলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় বিটিএমএ সভাপতি মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে ‘রুলস অব অরিজিন’ দ্রুত চূড়ান্তকরণ এবং কার্যকর অগ্রগতি নিশ্চিতে সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল-ইকোনমিক কাউন্সেলর এরিক গিলান, এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কভার্টসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণ, মার্কিন তুলার ব্যবহার বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় বন্ডেড ওয়্যারহাউজ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মার্কিন কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অধিকতর সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন।
এ বৈঠকে বিটিএমএর শীর্ষ পরিচালক ও সাবেক কর্মকর্তারাও অংশ নেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আলোচিত বিষয়গুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















