চলচ্চিত্রে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ের ভিডিও অনুমতি ছাড়া ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। সম্প্রতি অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তের একটি সিনেমার অন্তরঙ্গ দৃশ্য অনলাইনে ফাঁস হওয়ার পর আবারও অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও শুটিং সেটের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’-এর অভিনেতা অনিরুদ্ধ সূর্য।
বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে পরিচালিত ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’-এর একটি পর্বে অভিনয় করেছেন অনিরুদ্ধ। রাধিকার সঙ্গে তার পর্দায় কাজের সুযোগ খুব বেশি না হলেও সহকর্মীর এমন অভিজ্ঞতাকে অস্বস্তিকর বলেই মনে করছেন তিনি।
মিড ডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনিরুদ্ধ বলেন, বর্তমান সময়ের সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে অন্তরঙ্গ দৃশ্য এখন স্বাভাবিক বিষয়। এসব দৃশ্যের শুটিংয়ে পেশাদার ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটরও থাকেন। তবে ব্যক্তিগত পরিসরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অনিরুদ্ধ জানান, এখনো কোনো অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করেননি তিনি। মূলত কমেডি ঘরানার চরিত্রেই কাজ করেছেন। তবে অনুমতি ছাড়া এমন কোনো ব্যক্তিগত মুহূর্ত প্রকাশ্যে চলে এলে একজন অভিনয়শিল্পী কতটা অস্বস্তিতে পড়তে পারেন, তা তিনি উপলব্ধি করতে পারেন।
শুটিং সেটে গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের নিয়ম থাকলেও ফুটেজ ফাঁসের ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অনিরুদ্ধের ভাষ্য, সেটে কাজ করা ক্রু ও অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে সাধারণত গোপনীয়তা চুক্তি বা নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) করা হয়। অনুমতি ছাড়া কোনো ফুটেজ ধারণ বা প্রকাশের সুযোগ তাদের নেই।
রাধিকার ক্ষেত্রে ঠিক কীভাবে ভিডিওটি বাইরে এসেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন অনিরুদ্ধ। তবে তার ধারণা, সেটের ভেতরের কেউ অথবা বাইরে থেকে কেউ অননুমোদিতভাবে মুঠোফোন ব্যবহার করে দৃশ্যটি ধারণ করে থাকতে পারেন।
তিনি বলেন, সাধারণত ক্রু বা সেটকর্মীরা এমন ঝুঁকি নেন না, কারণ তাদের চুক্তিপত্রে সই করা থাকে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ধরা পড়লে তাদের গুরুতর আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সংবেদনশীল দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় সেটে মোবাইল ফোন ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞার পরামর্শ দিয়েছেন অনিরুদ্ধ।
তার মতে, অন্তরঙ্গ বা ব্যক্তিগত দৃশ্য ধারণের সময় সেটে মুঠোফোন একেবারেই না রাখার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এতে অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ফুটেজ অনুমতি ছাড়া ধারণ করে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
ইত্তেফাক/এএম
প্রতিবেদকের নাম 

























