ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

এলডিসি উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যে ৯২ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এ সুবিধার আওতায় তৈরি পোশাকও থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রায় ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও পরবর্তী তিন বছর এই সুবিধা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন সারাহ কুক।

বাংলাদেশকে কৌশলগত অংশীদার মনে করে যুক্তরাজ্য

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্যের কাছে বাংলাদেশ একটি কৌশলগত ও বিশ্বস্ত অংশীদার। দুই দেশের সম্পর্ক এখন আরও আধুনিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত হয়েছে, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন।

আরও পড়ুনঃ  হুথি মোকাবিলায় ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারকে ৪ উড়োজাহাজভর্তি অস্ত্র পাঠাল পাকিস্তান

তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান যোগাযোগ ও সম্পর্ক এই অংশীদারিত্বের অন্যতম ভিত্তি।

সারাহ কুক আরও বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী দেশ। অর্থ খাত, ফ্যাশন, শিক্ষা ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে ভূমিকা রাখছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।

এলডিসি উত্তরণে বাণিজ্য সুবিধা

বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে উল্লেখ করে সারাহ কুক বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রধান লক্ষ্য হলো এই উত্তরণকে মসৃণ ও টেকসই করা।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’ বিশ্বের অন্যতম সহজ ও উদার বাণিজ্য সুবিধার ব্যবস্থা। এলডিসি উত্তরণের পরও বাংলাদেশের বড় একটি অংশের পণ্য এই সুবিধার আওতায় থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল রাখতে জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ছাড়বে জি-৭

নিরাপত্তা ও বঙ্গোপসাগর

দুই দেশের সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের কথা তুলে ধরেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। তিনি বলেন, একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।

কৌশলগত গুরুত্ব বাড়তে থাকা বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের দায়িত্ব ও ভূমিকা যুক্তরাজ্য স্বীকার করে বলেও জানান তিনি।

সারাহ কুক বলেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত নিরাপত্তা কাঠামোর বাইরে গিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটে প্রত্যাবাসনের পক্ষে যুক্তরাজ্য

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখা এবং সংকটের টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরও পড়ুনঃ  নেপালে বন্যা-ভূমিধসের ৩৭ দিন পর জীবিত উদ্ধার মালয়েশিয়ান পর্যটক

তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূল হলে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়াই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।

জলবায়ু পরিবর্তনেও অভিন্ন স্বার্থ

জলবায়ু পরিবর্তনকে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থের অন্যতম বড় ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন সারাহ কুক। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির বাস্তবতা বাংলাদেশের চেয়ে ভালোভাবে বোঝে এমন দেশের সংখ্যা খুবই কম।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার ধরন পরিবর্তন এবং চরম আবহাওয়ার প্রভাব বাংলাদেশের মানুষ ইতোমধ্যে অনুভব করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মগুলোকেও বহন করতে হবে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর আয়োজন করেছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জাহিদ হাসানকে ‘বাবা’ ডেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা সুনেরাহর

এলডিসি উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যে ৯২ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা

আপডেটের সময়: ০৪:৫২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এ সুবিধার আওতায় তৈরি পোশাকও থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রায় ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও পরবর্তী তিন বছর এই সুবিধা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন সারাহ কুক।

বাংলাদেশকে কৌশলগত অংশীদার মনে করে যুক্তরাজ্য

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্যের কাছে বাংলাদেশ একটি কৌশলগত ও বিশ্বস্ত অংশীদার। দুই দেশের সম্পর্ক এখন আরও আধুনিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত হয়েছে, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন।

আরও পড়ুনঃ  তাইওয়ানে পৌঁছাল প্রথম দুই এফ-১৬ভি ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমান

তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান যোগাযোগ ও সম্পর্ক এই অংশীদারিত্বের অন্যতম ভিত্তি।

সারাহ কুক আরও বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী দেশ। অর্থ খাত, ফ্যাশন, শিক্ষা ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে ভূমিকা রাখছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।

এলডিসি উত্তরণে বাণিজ্য সুবিধা

বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে উল্লেখ করে সারাহ কুক বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রধান লক্ষ্য হলো এই উত্তরণকে মসৃণ ও টেকসই করা।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’ বিশ্বের অন্যতম সহজ ও উদার বাণিজ্য সুবিধার ব্যবস্থা। এলডিসি উত্তরণের পরও বাংলাদেশের বড় একটি অংশের পণ্য এই সুবিধার আওতায় থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  হুথি মোকাবিলায় ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারকে ৪ উড়োজাহাজভর্তি অস্ত্র পাঠাল পাকিস্তান

নিরাপত্তা ও বঙ্গোপসাগর

দুই দেশের সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের কথা তুলে ধরেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। তিনি বলেন, একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।

কৌশলগত গুরুত্ব বাড়তে থাকা বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের দায়িত্ব ও ভূমিকা যুক্তরাজ্য স্বীকার করে বলেও জানান তিনি।

সারাহ কুক বলেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকির মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত নিরাপত্তা কাঠামোর বাইরে গিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটে প্রত্যাবাসনের পক্ষে যুক্তরাজ্য

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখা এবং সংকটের টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরও পড়ুনঃ  গাজা কূটনীতির সময়ে ইসরায়েলি সামরিক খাতে বিনিয়োগ, কুশনারকে ঘিরে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন

তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূল হলে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়াই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।

জলবায়ু পরিবর্তনেও অভিন্ন স্বার্থ

জলবায়ু পরিবর্তনকে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থের অন্যতম বড় ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন সারাহ কুক। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির বাস্তবতা বাংলাদেশের চেয়ে ভালোভাবে বোঝে এমন দেশের সংখ্যা খুবই কম।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার ধরন পরিবর্তন এবং চরম আবহাওয়ার প্রভাব বাংলাদেশের মানুষ ইতোমধ্যে অনুভব করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মগুলোকেও বহন করতে হবে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর আয়োজন করেছে।