ঢাকা ০১:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঢাকায় চালু হচ্ছে আরেক দেশের ভিসা সেন্টার জানা গেল কবে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় মক্কায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি বিধ্বস্ত নেপালে প্রাণহানি বেড়ে ১৬০, বিহারে বন্যার শঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনাকে ‘প্রহসন’ বলল ইরান গাজীপুরে ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট ঢাকায় দুপুরের আগেই নামতে পারে বৃষ্টি, বজ্রবৃষ্টিরও আভাস রোহিঙ্গারা দেশে ফিরুক, তা কোনোভাবেই চায় না মিয়ানমার: সামি হামদি ট্রাম্পের হুমকি: লেক অন্টারিওর নাম হতে পারে ‘লেক আমেরিকা’ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে পাঁচ দিনের কর্মসূচি, ১ সেপ্টেম্বর সমাধিতে শ্রদ্ধা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে সারজিসের ক্ষোভ, আগামী বর্ষার আগেই সমাধানের দাবি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১২:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৫ সময় দেখুন

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও নগর ব্যবস্থাপনার দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। আগামী বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতাসহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোড এলাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সারজিস আলম।

তিনি বলেন, বর্ষা এলেই জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের হাঁটু বা কোমর পানিতে নেমে ছবি তোলা কিংবা লোক দেখানো কর্মকাণ্ড আর দেখতে চান না। আগামী ২০২৭ সালের বর্ষায় এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে এখন থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

জলাবদ্ধতা নিয়ে লোক দেখানো কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান

সারজিস আলম বলেন, বর্ষা শেষ হলে শরৎ, হেমন্ত ও শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার বিষয়টি অনেকের কাছে গুরুত্ব হারায়। এরপর পরবর্তী বর্ষায় নগর আবার পানিতে ডুবে গেলে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা পানিতে নেমে কিংবা নৌকা-মাচা নিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শনের মতো কর্মকাণ্ড করেন।

আরও পড়ুনঃ  গরু চুরির অভিযোগে ঝিনাইদহে গণপিটুনিতে নিহত ১, আহত ১

এ ধরনের লোক দেখানো উদ্যোগের পরিবর্তে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

তার ভাষ্য, সরকারের হাতে প্রায় এক বছর সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও নগর ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলো সমাধানে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

চট্টগ্রামের জন্য আলাদা মেগা পরিকল্পনার দাবি

চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, নগরবাসীকে শুধু লোক দেখানোর জন্য সেবা দেওয়ার চেষ্টা করলে তা যথেষ্ট নয়।

আগামী এক বছরের মধ্যে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি পৃথক মেগা উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, পানি নিষ্কাশন, রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন, পানি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে সমন্বিতভাবে এই পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  ইমাম-খাদেমের নাম বাদ দিয়ে ভাতার তালিকায় নিজেদের নাম, অব্যাহতি দুই জামায়াত নেতার

রাস্তাঘাটের দুরবস্থা নিয়েও ক্ষোভ

চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সারজিস আলম বলেন, নগরের অনেক সড়ক ও আবাসিক এলাকার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ।

বিশেষ করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অসুস্থ ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এসব সমস্যার কারণে দুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রশ্ন

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নগরী হওয়ার পরও চট্টগ্রামের একজন বাসিন্দাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কেন ঢাকায় যেতে হবে—এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  ‘প্রধানমন্ত্রী হলে ইতিহাসের প্রথম মুখ খারাপ প্রধানমন্ত্রী হব’: মেঘনা আলম

নগরবাসীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, সড়ক যোগাযোগ, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর জোর

সারজিস আলম বলেন, চট্টগ্রামকে শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সাময়িক ও লোক দেখানো উদ্যোগ বাদ দিতে হবে।

নগরের পানি নিষ্কাশন, রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন, পানি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সমস্যাগুলো সমন্বিতভাবে সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি।

আগামী বর্ষার আগেই এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান সারজিস আলম।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টিও একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরার কথা জানান তিনি।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ঢাকায় চালু হচ্ছে আরেক দেশের ভিসা সেন্টার

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে সারজিসের ক্ষোভ, আগামী বর্ষার আগেই সমাধানের দাবি

আপডেটের সময়: ১২:২৭:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও নগর ব্যবস্থাপনার দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। আগামী বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতাসহ নগরের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোড এলাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সারজিস আলম।

তিনি বলেন, বর্ষা এলেই জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের হাঁটু বা কোমর পানিতে নেমে ছবি তোলা কিংবা লোক দেখানো কর্মকাণ্ড আর দেখতে চান না। আগামী ২০২৭ সালের বর্ষায় এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে এখন থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

জলাবদ্ধতা নিয়ে লোক দেখানো কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান

সারজিস আলম বলেন, বর্ষা শেষ হলে শরৎ, হেমন্ত ও শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার বিষয়টি অনেকের কাছে গুরুত্ব হারায়। এরপর পরবর্তী বর্ষায় নগর আবার পানিতে ডুবে গেলে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা পানিতে নেমে কিংবা নৌকা-মাচা নিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শনের মতো কর্মকাণ্ড করেন।

আরও পড়ুনঃ  রাতে ঢাকায় বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, কমতে পারে তাপমাত্রা

এ ধরনের লোক দেখানো উদ্যোগের পরিবর্তে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

তার ভাষ্য, সরকারের হাতে প্রায় এক বছর সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও নগর ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলো সমাধানে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

চট্টগ্রামের জন্য আলাদা মেগা পরিকল্পনার দাবি

চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, নগরবাসীকে শুধু লোক দেখানোর জন্য সেবা দেওয়ার চেষ্টা করলে তা যথেষ্ট নয়।

আগামী এক বছরের মধ্যে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি পৃথক মেগা উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, পানি নিষ্কাশন, রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন, পানি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে সমন্বিতভাবে এই পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকায় দুপুরের আগেই নামতে পারে বৃষ্টি, বজ্রবৃষ্টিরও আভাস

রাস্তাঘাটের দুরবস্থা নিয়েও ক্ষোভ

চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সারজিস আলম বলেন, নগরের অনেক সড়ক ও আবাসিক এলাকার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ।

বিশেষ করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অসুস্থ ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এসব সমস্যার কারণে দুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রশ্ন

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নগরী হওয়ার পরও চট্টগ্রামের একজন বাসিন্দাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কেন ঢাকায় যেতে হবে—এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  লংমার্চ নিয়ে আইজিপিকে জানানো হয়েছে, অনুমতি নেওয়া হয়নি: গোলাম পরওয়ার

নগরবাসীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, সড়ক যোগাযোগ, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর জোর

সারজিস আলম বলেন, চট্টগ্রামকে শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সাময়িক ও লোক দেখানো উদ্যোগ বাদ দিতে হবে।

নগরের পানি নিষ্কাশন, রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন, পানি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সমস্যাগুলো সমন্বিতভাবে সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি।

আগামী বর্ষার আগেই এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান সারজিস আলম।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টিও একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরার কথা জানান তিনি।