ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সংসদে ‘আই হ্যাভ এ প্লান’ এর ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী গবেষণার ফলাফল ইম্প্যাক্টফুল হতে হবে : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব অনলাইন চালের দাম স্থিতিশীল—বাজার পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী সীমান্তে পুশ ইন তৎপরতায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে : সাইফুল হক জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিএনপি আগামী ৫ বছর দেশ পরিচালনা করবে: প্রধানমন্ত্রী ইরানের আচরণ না বদলালে আবারও হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের নিউজিল্যান্ড ম্যাচের পর ইরান জাতীয় দলের প্রথম অনুশীলন অনুষ্ঠিত বাবা-মায়ের ভিন্ন ধর্ম, নিজের বিশ্বাস নিয়ে যা বললেন বিজয় ডিম টাটকা না পুরোনো—সহজে বোঝার উপায় বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রাথমিক স্কুলে ‘প্রক্সি শিক্ষক’ দিয়ে চলছে পাঠদান, অভিযোগ অভিভাবকদের

চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পরিবর্তে নামমাত্র বেতনে স্থানীয় অল্পশিক্ষিত ব্যক্তিদের দিয়ে পাঠদান করানোর অভিযোগ উঠেছে। মাসে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার বিনিময়ে এসব ‘প্রক্সি শিক্ষক’ দিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তাদের মধ্যে কেউ অষ্টম শ্রেণি পাস, আবার কেউ এসএসসি পাস।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষক শহরে বসবাস করেন এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। বিষয়টি নিয়ে বহুবার অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি বলে দাবি স্থানীয়দের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের জোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, আধুনিক ভবন থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে কোনো শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। সেখানে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে প্রক্সি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দিলরুবা খাতুন। তিনি শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীকে একাই সামলাচ্ছেন

আরও পড়ুনঃ  হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৪ হাজারের বেশি হাজি, চলবে ফিরতি ফ্লাইট

গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে আসেন সহকারী শিক্ষক নেওয়াজ শরিফ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এসে কয়েক দিনের হাজিরা খাতায় সই করেন। সারাদিন অপেক্ষার পরও অন্য কোনো শিক্ষকের দেখা মেলেনি।

শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে তাদের পরিচয়ই নেই। একজন শিক্ষার্থী বলে, “কেউ আসে না, আমরা খেলাধুলা করে বাড়ি চলে যাই।” আরেকজনের ভাষায়, “আমি পড়া পারি না। আমার পাশের ও কেউ পড়া পারে না। বসে থাকি আর খাওয়া-দাওয়া করে চলে যাই।”

আরও পড়ুনঃ  মৌলভীবাজার সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি আহত

প্রক্সি শিক্ষক দিলরুবা খাতুন বলেন, “কারও পক্ষ থেকে না, যৌথভাবে সবাই মিলে আমাকে রেখেছে।” তিনি মাসে তিন হাজার টাকা বেতনে বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান।

অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক নেওয়াজ শরিফ বলেন, “সবাই আছে এখানে। কারো কোনো কাজ থাকায় হয়তো আসেনি, হয়তো হেড স্যারকে জানিয়ে ওই কাজ করছে।”

নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মাধ্যমে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা মৌলিক শিক্ষাও ঠিকমতো অর্জন করতে পারছে না।

আরও পড়ুনঃ  আগস্টে রূপপুর থেকে আসছে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী

তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, শিক্ষক সংকটের কারণে ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, শিক্ষিত ব্যক্তি বা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব দিতে পারে। তার ভাষায়, “সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি চাকরি এটা কিন্তু আসলে নিয়ম মেনেই করা হয়।”

উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ৭০৫টি, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চরাঞ্চলে অবস্থিত।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সংসদে ‘আই হ্যাভ এ প্লান’ এর ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রাথমিক স্কুলে ‘প্রক্সি শিক্ষক’ দিয়ে চলছে পাঠদান, অভিযোগ অভিভাবকদের

আপডেটের সময়: ১১:২৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পরিবর্তে নামমাত্র বেতনে স্থানীয় অল্পশিক্ষিত ব্যক্তিদের দিয়ে পাঠদান করানোর অভিযোগ উঠেছে। মাসে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার বিনিময়ে এসব ‘প্রক্সি শিক্ষক’ দিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তাদের মধ্যে কেউ অষ্টম শ্রেণি পাস, আবার কেউ এসএসসি পাস।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষক শহরে বসবাস করেন এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। বিষয়টি নিয়ে বহুবার অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি বলে দাবি স্থানীয়দের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের জোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, আধুনিক ভবন থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে কোনো শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। সেখানে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে প্রক্সি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দিলরুবা খাতুন। তিনি শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীকে একাই সামলাচ্ছেন

আরও পড়ুনঃ  কক্সবাজারে পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে আসেন সহকারী শিক্ষক নেওয়াজ শরিফ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এসে কয়েক দিনের হাজিরা খাতায় সই করেন। সারাদিন অপেক্ষার পরও অন্য কোনো শিক্ষকের দেখা মেলেনি।

শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে তাদের পরিচয়ই নেই। একজন শিক্ষার্থী বলে, “কেউ আসে না, আমরা খেলাধুলা করে বাড়ি চলে যাই।” আরেকজনের ভাষায়, “আমি পড়া পারি না। আমার পাশের ও কেউ পড়া পারে না। বসে থাকি আর খাওয়া-দাওয়া করে চলে যাই।”

আরও পড়ুনঃ  আগস্টে রূপপুর থেকে আসছে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী

প্রক্সি শিক্ষক দিলরুবা খাতুন বলেন, “কারও পক্ষ থেকে না, যৌথভাবে সবাই মিলে আমাকে রেখেছে।” তিনি মাসে তিন হাজার টাকা বেতনে বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান।

অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক নেওয়াজ শরিফ বলেন, “সবাই আছে এখানে। কারো কোনো কাজ থাকায় হয়তো আসেনি, হয়তো হেড স্যারকে জানিয়ে ওই কাজ করছে।”

নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মাধ্যমে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা মৌলিক শিক্ষাও ঠিকমতো অর্জন করতে পারছে না।

আরও পড়ুনঃ  মৌলভীবাজার সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি আহত

তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, শিক্ষক সংকটের কারণে ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, শিক্ষিত ব্যক্তি বা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব দিতে পারে। তার ভাষায়, “সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি চাকরি এটা কিন্তু আসলে নিয়ম মেনেই করা হয়।”

উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ৭০৫টি, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চরাঞ্চলে অবস্থিত।