পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। নগরের প্রধান সড়ক, সড়কদ্বীপ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নির্মাণ করা হয়েছে নানা নকশার তোরণ। সড়কের দুই পাশে শোভা পাচ্ছে রঙিন পতাকা। বর্ণিল আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জায় জশনে জুলুসকে ঘিরে নগরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
বুধবার অনুষ্ঠিত হবে ৫৫তম জশনে জুলুস
বুধবার (২৬ আগস্ট) ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জশনে জুলুসের ৫৫তম আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া সিরিকোটের সাজ্জাদনশীন পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহর নেতৃত্বে এ জুলুস অনুষ্ঠিত হবে।
জুলুসকে সামনে রেখে মঙ্গলবার নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রধান সড়ক ও আশপাশের এলাকায় চলছে সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
ষোলশহর, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা, লালখানবাজার ও টাইগারপাস এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন নকশার তোরণ। সড়কের দুই পাশে ও বিভিন্ন স্থাপনায় টানানো হয়েছে পতাকা।
তোরণ ও পতাকায় বর্ণিল নগর
কোথাও বড় তোরণে লেখা হয়েছে ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা ও নবীপ্রেমের নানা বাণী। আবার কোথাও জশনে জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সবুজ পতাকার সারি ও আলোকসজ্জায় নগরের প্রধান সড়কগুলো পেয়েছে ভিন্ন এক আবহ। জুলুসকে কেন্দ্র করে নগরের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উৎসবের অনুভূতি।
যে পথে যাবে জুলুস
বুধবার সকাল ৮টায় নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকাহ-এ কাদেরিয়া সৈয়দিয়া তৈয়বিয়া থেকে জুলুস শুরু হবে।
জুলুসটি মুরাদপুর, ষোলশহর দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, লালখানবাজার হয়ে টাইগারপাস পর্যন্ত যাবে। পরে একই পথে ফিরে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা সংলগ্ন জুলুস ময়দানে জমায়েত হবে।
সেখানে জোহরের নামাজের পর দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। আল্লামা সাবির শাহর সঙ্গে এবারের জুলুসে সৈয়দ মুহাম্মদ কাশেম শাহ ও সৈয়দ মুহাম্মদ আকিব শাহ অতিথি হিসেবে থাকবেন।
যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রস্তুতি
জশনে জুলুসে বিপুল মানুষের সমাগমের কথা মাথায় রেখে যানবাহন ব্যবস্থাপনার জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জুলুসের সামনে বা পেছনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমের গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন না চালানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উত্তর চট্টগ্রাম থেকে আসা গাড়িগুলো এ কে খান মোড়, অক্সিজেন বাস টার্মিনাল, অনন্য আবাসিক এলাকা ও পুরাতন চান্দগাঁও থানা এলাকায় পার্কিং করবে।
দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে আসা গাড়িগুলো কর্ণফুলী ব্রিজ থেকে বাকলিয়া এক্সেস রোড ও পুরাতন চান্দগাঁও থানা এলাকায় পার্কিং করবে। মহানগরের দক্ষিণ অংশ থেকে আসা গাড়িগুলো দেওয়ান হাট এলাকায় সুবিধাজনক স্থানে পার্কিং করবে।
লাখো মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা
২০২৪ সাল থেকে আল্লামা সাবির শাহ ঢাকা ও চট্টগ্রামে জশনে জুলুসের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
প্রতিবছর চট্টগ্রাম ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ এ আয়োজনে অংশ নেন। এবারও লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জশনে জুলুসে নগরের রাজপথ মুখর হবে বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।
জশনে জুলুসের আয়োজক আনজুমান ট্রাস্টের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট মোসাহেব উদ্দিন বখতেয়ার বলেন, চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ জুলুসে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উপজেলা পর্যায়ে গাউছিয়া কমিটির বিভিন্ন শাখার ব্যবস্থাপনায় লোকজন জুলুসে আসবেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবারের জশনে জুলুসে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের সমাগম হবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















