টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জামালপুরের বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত ৩০টি বসতবাড়ি, আর গৃহহীন হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাথরের চর বাজারের পূর্বপাড় ও গোয়ালকান্দা এলাকা। নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে দুই গ্রামের মানচিত্র। ভাঙনের মুখে রয়েছে পাথরের চর বাজার, বিজিবি ক্যাম্প, মসজিদ, সড়ক এবং খেলার মাঠ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীভাঙন চললেও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছরই অসংখ্য পরিবার বসতভিটা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো জরিনা বেগম বলেন, “আমাদের পায়ের নিচে মাটি নেই, মাথার ওপর ছাদ নেই। আমরা রিলিফের পোটলা চাই না, নদীভাঙন ঠেকান। কাজ করে খেতে পারব।”
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত আলী আহমদ জানান, প্রতিবছর বর্ষায় নদীভাঙনে মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়লেও স্থায়ী সমাধানের বদলে শুধু সাময়িক ত্রাণই মেলে। তার দাবি, ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগই এখন সবচেয়ে জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দা তারা মিয়া বলেন, চোখের সামনে নদী তাদের ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্পদ গিলে খাচ্ছে, অথচ প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও অনুমোদন মেলেনি।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যক্রম শুরু করা হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















