ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
 অধ্যক্ষের স্হায়ী বরখাস্তের দাবি অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর উলিপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর লেবাননে বিস্ফোরণে ইসরাইলি সেনা নিহত জোড়া গোলের রাতে রেকর্ডবুকে কেইন, পেছনে ফেললেন মেসিকে নেতানিয়াহুকে সামলানো কঠিন, সবকিছুতে বোমা মারতে চান: ট্রাম্প জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ থাকবে পুলিশের ১২ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার থেম্বা জোয়ানে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

নড়াইলে সাত বছরেও শেষ হয়নি বেড়িবাঁধের কাজ, ঝুঁকিতে ৬ হাজার একর জমি

  • arif
  • আপডেটের সময়: ০৯:২৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ৯ সময় দেখুন

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ছয় হাজার একর জমির ফসল ও বসতবাড়ি মধুমতী নদীর পানিতে বছরের পর বছর প্লাবিত হচ্ছে। এতে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজারো পরিবার। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও সাত বছরেও তা সম্পন্ন হয়নি। দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নড়াইলে সাত বছরেও শেষ হয়নি বেড়িবাঁধের কাজ, ঝুঁকিতে ৬ হাজার একর জমি

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশকের ভাঙনে মধুমতী নদীর পাড়ে পাকা সড়ক বিলীন হয়ে গেছে। বছরের পর বছর নদীর পানি ঢুকে অন্তত ছয় হাজার একর জমির ফসল প্লাবিত হচ্ছে। শুধু ফসলি জমি নয়, ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজারো পরিবার।

আরও পড়ুনঃ  হত্যা মামলায় জামিন পেলেন আবুল বারকাত

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০১৯ সালে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল থেকে ঘাঘা চেয়ারম্যানের বাড়ি পর্যন্ত (ধলইতলা) ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একনেক সভায় অনুমোদন দেয় তৎকালীন সরকার। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৩৪২ কোটি টাকা।

স্থানীয়দের আপত্তি ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০২৩ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু করে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন। ২০২৫ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফা সময় বাড়ানো হলেও কাজের অগ্রগতি খুবই ধীর। কিছু অংশে খনন কাজ ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এছাড়া প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ১৬১ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন মাত্র ২৪ জন। বেড়িবাঁধ নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  রেকর্ডের অপেক্ষায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পর্তুগালের মুখোমুখি হবে ডিআর কঙ্গো

উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের ফসলি জমি ও বাড়িঘর রক্ষায় দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বলছে, জমির ক্ষতিপূরণ না পেলে কোনোভাবেই তারা কাজ চলতে দেবেন না।

এস এ ইউবি জে বি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. মিলন আলী সময় সংবাদকে বলেন, বেড়িবাঁধের কাজ নিয়ে আমরা কিছুটা বিপাকে আছি। এখনো পানি উন্নয়ন বোর্ড পুরো জমি আমাদের বুঝিয়ে দেয়নি। কাজ করতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা বলছেন, ক্ষতিপূরণ না পেলে কাজ করতে দেবেন না। এ অবস্থায় কিছু অংশে কাজ করা যাচ্ছে, তবে পুরো জমি বুঝে পেলে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুনঃ  হাম টিকাদানে গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, প্রকল্পটি ২০১৯ সালের হলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২২ সাল পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। ২০২৩ সাল থেকে কাজ শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয় বাধা ও জমি জটিলতার কারণে ঠিকাদার নিয়মিতভাবে কাজ করতে পারছেন না। লাল পতাকা দিয়ে জমি চিহ্নিত করা হলেও পরে তা তুলে ফেলা হচ্ছে। সমস্যা সমাধান হলে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হোসনে আরা তান্নি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার জমি চিহ্নিত করে দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৪ জন ক্ষতিগ্রস্তকে যাচাই-বাছাই শেষে ক্ষতিপূরণের চেক দেয়া হয়েছে। বাকিদের আবেদন ও কাগজপত্র যাচাই করে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

 অধ্যক্ষের স্হায়ী বরখাস্তের দাবি অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর

নড়াইলে সাত বছরেও শেষ হয়নি বেড়িবাঁধের কাজ, ঝুঁকিতে ৬ হাজার একর জমি

আপডেটের সময়: ০৯:২৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ছয় হাজার একর জমির ফসল ও বসতবাড়ি মধুমতী নদীর পানিতে বছরের পর বছর প্লাবিত হচ্ছে। এতে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজারো পরিবার। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও সাত বছরেও তা সম্পন্ন হয়নি। দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।

নড়াইলে সাত বছরেও শেষ হয়নি বেড়িবাঁধের কাজ, ঝুঁকিতে ৬ হাজার একর জমি

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশকের ভাঙনে মধুমতী নদীর পাড়ে পাকা সড়ক বিলীন হয়ে গেছে। বছরের পর বছর নদীর পানি ঢুকে অন্তত ছয় হাজার একর জমির ফসল প্লাবিত হচ্ছে। শুধু ফসলি জমি নয়, ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজারো পরিবার।

আরও পড়ুনঃ  সংসদে ‘আই হ্যাভ এ প্লান’ এর ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০১৯ সালে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল থেকে ঘাঘা চেয়ারম্যানের বাড়ি পর্যন্ত (ধলইতলা) ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য একনেক সভায় অনুমোদন দেয় তৎকালীন সরকার। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৩৪২ কোটি টাকা।

স্থানীয়দের আপত্তি ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০২৩ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু করে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন। ২০২৫ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফা সময় বাড়ানো হলেও কাজের অগ্রগতি খুবই ধীর। কিছু অংশে খনন কাজ ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এছাড়া প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ১৬১ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন মাত্র ২৪ জন। বেড়িবাঁধ নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  রাজধানীর মিরপুরে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার

উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের ফসলি জমি ও বাড়িঘর রক্ষায় দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বলছে, জমির ক্ষতিপূরণ না পেলে কোনোভাবেই তারা কাজ চলতে দেবেন না।

এস এ ইউবি জে বি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. মিলন আলী সময় সংবাদকে বলেন, বেড়িবাঁধের কাজ নিয়ে আমরা কিছুটা বিপাকে আছি। এখনো পানি উন্নয়ন বোর্ড পুরো জমি আমাদের বুঝিয়ে দেয়নি। কাজ করতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা বলছেন, ক্ষতিপূরণ না পেলে কাজ করতে দেবেন না। এ অবস্থায় কিছু অংশে কাজ করা যাচ্ছে, তবে পুরো জমি বুঝে পেলে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুনঃ  ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইল জামায়াত

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, প্রকল্পটি ২০১৯ সালের হলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২২ সাল পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। ২০২৩ সাল থেকে কাজ শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয় বাধা ও জমি জটিলতার কারণে ঠিকাদার নিয়মিতভাবে কাজ করতে পারছেন না। লাল পতাকা দিয়ে জমি চিহ্নিত করা হলেও পরে তা তুলে ফেলা হচ্ছে। সমস্যা সমাধান হলে দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হোসনে আরা তান্নি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার জমি চিহ্নিত করে দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৪ জন ক্ষতিগ্রস্তকে যাচাই-বাছাই শেষে ক্ষতিপূরণের চেক দেয়া হয়েছে। বাকিদের আবেদন ও কাগজপত্র যাচাই করে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।