পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ধারাবাহিক সশস্ত্র হামলায় গত চার দিনে দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশের অন্তত ৪২ সদস্য নিহত হয়েছেন। একই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ৫৪ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
বুধবার (৮ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, গত ৬ জুলাই থেকে বেলুচিস্তানে তিনটি বড় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় সামরিক ও পুলিশ সদস্যসহ মোট ৪২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, হামলাগুলো ভারতের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৪ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে ৪ ও ৫ জুলাইয়ের মধ্যবর্তী রাতে হান্না উরাক এলাকায়। সে সময় ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ গোষ্ঠীর সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়দের প্রতিরোধে হামলাকারীরা পিছু হটলেও এ ঘটনায় চার বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ছয়জন আহত হন।
দ্বিতীয় হামলা হয় ৬ জুলাই মাঙ্গি বাঁধ এলাকার একটি পুলিশি তল্লাশি চৌকিতে। হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র গোলাগুলিতে প্রথমদিকে ১৫ জন সন্ত্রাসী নিহত হলেও পুলিশের নয় সদস্য প্রাণ হারান। পরে নিরাপত্তা বাহিনী পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে। ঘটনাস্থলে ১৫ সন্ত্রাসীর মরদেহ ফেলে তারা পালিয়ে যায় বলে জানায় আইএসপিআর।
এদিকে, ৬ জুলাই থেকেই জিয়ারত অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছিল নিরাপত্তা বাহিনী। আইএসপিআর জানায়, অভিযানের চাপ বাড়তে থাকায় সন্ত্রাসীরা আরও ১৮ পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে। ওই অভিযানে আরও ১১ জন সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যদিও নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মাঙ্গি তল্লাশি চৌকিতে হামলার ঘটনায় মোট ২৭ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। একই অভিযানে ২৬ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্র: জিও নিউজ
প্রতিবেদকের নাম 




















