ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ‘বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প জানান, এই চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল মজুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার তৈরি হবে। পাশাপাশি দেশটির তেল খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সুযোগও তৈরি হবে।
চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আলোচনা করেন।
ভেনেজুয়েলা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় দেশটির ১৭টি তেলক্ষেত্র উন্নয়ন করা হবে। এসব তেলক্ষেত্রে প্রমাণিতভাবে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুত রয়েছে। চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসতে পারে। একই সঙ্গে দেশটির সরকার ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর রাজস্ব পেতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
চুক্তির বিষয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ভেনেজুয়েলায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বে নতুন একটি কোম্পানি গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটি তেলক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন ও উৎপাদনের দায়িত্ব নেবে। ভেনেজুয়েলা সরকার ওই কোম্পানিকে তেলক্ষেত্র উন্নয়নের জন্য ১০০ বছরের অধিকার দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
চুক্তি অনুযায়ী, নতুন কোম্পানির কার্যকর উৎপাদনের ৫৫ শতাংশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এর মধ্যে মালিকানার অংশীদারত্বের পাশাপাশি উৎপাদন খরচে তেল কেনার অধিকারও থাকবে।
মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, চুক্তির আওতায় গঠিত নতুন কোম্পানিটি সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুতের করপোরেট মালিক হতে পারে।
জ্বালানির দাম কমাতে কতটা কাজে আসবে?
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপের মধ্যেই এ চুক্তির ঘোষণা এলো। এর পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনও কমে গেছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ০৯ ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে এই দাম ছিল ৩ দশমিক ২১ ডলার।
তবে নতুন চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত জ্বালানির দাম কমবে বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভেনেজুয়েলার পুরোনো তেল অবকাঠামো সংস্কার ও সম্প্রসারণ করতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন। উৎপাদন বাড়াতে কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তেল মজুত থাকা দেশগুলোর একটি ভেনেজুয়েলা। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হিসাবে, দেশটির ভূগর্ভে আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে। এটি বিশ্বের মোট তেল মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ। তবে পুরোনো ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে বর্তমানে বিশ্ব তেল উৎপাদনে ভেনেজুয়েলার অংশ মাত্র প্রায় ১ শতাংশ।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, এর ফলে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে, হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে গতি আসবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















