ঢাকা ০৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নজির, মৃত্যুদণ্ড পুরোপুরি বাতিল করল লেবানন

লেবাননের সংসদ মৃত্যুদণ্ডের বিধান পুরোপুরি বাতিল করে একটি আইন পাস করেছে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের নজির স্থাপন করল দেশটি।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) কয়েক দফা সংশোধনের পর সংসদে মৃত্যুদণ্ড বিলোপসংক্রান্ত বিলটি পাস হয়। দেশটির ১২৮ সদস্যের সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য বিলটির পক্ষে ভোট দেন। তবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্যরা এর বিরোধিতা করেন।

সংসদে বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্তকে দেশের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। নতুন আইনে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে কঠোর সশ্রম কারাদণ্ডসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  হাসিনার নির্দেশে গুম করা হয়েছিল সালাহউদ্দিন আহমদকে

লেবাননে ২০০৪ সালের জানুয়ারি থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ রয়েছে। তবে এরপরও দেশটির আদালতগুলোতে কয়েক ডজন মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। বিচার মন্ত্রণালয়ের কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষ নাগাদ দেশটিতে ৮৫ জন ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় ছিলেন।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল লেবাননের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক পরিচালক হেবা মোরায়েফ এটিকে লেবাননের জন্য ‘বিশাল মাইলফলক’ এবং ‘মানবাধিকারের বড় বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশ চা বোর্ডে নিয়োগ, ১৩ পদে চাকরি পাবেন ৩৬ জন

তার মতে, দুই দশকের বেশি সময় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না থাকার পর নতুন আইন সেই দীর্ঘস্থায়ী স্থগিতাবস্থাকে স্থায়ী আইনি সুরক্ষা দিয়েছে এবং মানুষের জীবনের অধিকারকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তবে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে কঠোর সশ্রম কারাদণ্ড কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে এখনও কিছু প্রশ্ন রয়েছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতাও নতুন শাস্তির বিধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অর্থনৈতিক সংকট, সীমিত সম্পদ এবং কারাগারগুলোর সক্ষমতার অভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লেবাননে সশ্রম কারাদণ্ড কার্যকর করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নলকায় বাসে ট্রাকের ধাক্কা, চালকসহ নিহত ২

এদিকে, ১৯৯০ সালে ১৫ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসানের পর সবচেয়ে বড় সাধারণ ক্ষমা আইন নিয়েও আলোচনা চলছে দেশটির সংসদে। প্রস্তাবিত আইনে সংঘাত ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের সাজা কমানো বা মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন হামলায় নিহত সেনা ও নিরাপত্তা সদস্যদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য। তাদের দাবি, স্বজনদের হত্যাকারীদের সাজা কমানো নয়, বরং কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত।

লেবাননের মৃত্যুদণ্ড বিলোপের সিদ্ধান্ত দেশটির বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নজির, মৃত্যুদণ্ড পুরোপুরি বাতিল করল লেবানন

আপডেটের সময়: ১১:১৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

লেবাননের সংসদ মৃত্যুদণ্ডের বিধান পুরোপুরি বাতিল করে একটি আইন পাস করেছে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের নজির স্থাপন করল দেশটি।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) কয়েক দফা সংশোধনের পর সংসদে মৃত্যুদণ্ড বিলোপসংক্রান্ত বিলটি পাস হয়। দেশটির ১২৮ সদস্যের সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য বিলটির পক্ষে ভোট দেন। তবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্যরা এর বিরোধিতা করেন।

সংসদে বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্তকে দেশের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। নতুন আইনে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে কঠোর সশ্রম কারাদণ্ডসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  হাসিনার নির্দেশে গুম করা হয়েছিল সালাহউদ্দিন আহমদকে

লেবাননে ২০০৪ সালের জানুয়ারি থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ রয়েছে। তবে এরপরও দেশটির আদালতগুলোতে কয়েক ডজন মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। বিচার মন্ত্রণালয়ের কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষ নাগাদ দেশটিতে ৮৫ জন ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় ছিলেন।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল লেবাননের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক পরিচালক হেবা মোরায়েফ এটিকে লেবাননের জন্য ‘বিশাল মাইলফলক’ এবং ‘মানবাধিকারের বড় বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুনঃ  সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: শিশুসহ নিহত ৯, দায় বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিং

তার মতে, দুই দশকের বেশি সময় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না থাকার পর নতুন আইন সেই দীর্ঘস্থায়ী স্থগিতাবস্থাকে স্থায়ী আইনি সুরক্ষা দিয়েছে এবং মানুষের জীবনের অধিকারকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তবে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে কঠোর সশ্রম কারাদণ্ড কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে এখনও কিছু প্রশ্ন রয়েছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতাও নতুন শাস্তির বিধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অর্থনৈতিক সংকট, সীমিত সম্পদ এবং কারাগারগুলোর সক্ষমতার অভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লেবাননে সশ্রম কারাদণ্ড কার্যকর করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশ চা বোর্ডে নিয়োগ, ১৩ পদে চাকরি পাবেন ৩৬ জন

এদিকে, ১৯৯০ সালে ১৫ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসানের পর সবচেয়ে বড় সাধারণ ক্ষমা আইন নিয়েও আলোচনা চলছে দেশটির সংসদে। প্রস্তাবিত আইনে সংঘাত ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের সাজা কমানো বা মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন হামলায় নিহত সেনা ও নিরাপত্তা সদস্যদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য। তাদের দাবি, স্বজনদের হত্যাকারীদের সাজা কমানো নয়, বরং কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত।

লেবাননের মৃত্যুদণ্ড বিলোপের সিদ্ধান্ত দেশটির বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।