
“বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের অপেক্ষায় বিশ্ব, বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে শুরু”
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। এরপরই বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। একই সরলরেখায় সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী অবস্থান করায় তৈরি হবে এই মহাজাগতিক দৃশ্য। ২০২৪ সালের এপ্রিলে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের পর আবারও এমন বিরল দৃশ্য দেখার সুযোগ পাচ্ছেন পৃথিবীবাসী।
এবারের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। স্পেন, আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড, রাশিয়া ও পর্তুগালসহ উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার কিছু এলাকাতেও গ্রহণের দৃশ্য দেখা যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের বিভিন্ন এলাকা থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে। ফলে এ মহাজাগতিক ঘটনা দেখতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জড়ো হয়েছেন অসংখ্য পর্যটক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমী।
তবে গ্রহণ দেখার প্রস্তুতি নেওয়া দর্শনার্থীদের জন্য আবহাওয়াও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় শেষ মুহূর্তে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে গ্রহণের দৃশ্য উপভোগ করা কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে সূর্যগ্রহণ শুরু হবে। পুরো গ্রহণের স্থায়িত্ব হবে প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড।
কীভাবে ঘটে সূর্যগ্রহণ?
চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে সূর্যের আলো পৃথিবীর কোনো অংশে পৌঁছাতে বাধা দেয়, তখন সূর্যগ্রহণ ঘটে। আর চাঁদ যখন সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে, তখন সেটিকে বলা হয় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।
বিজ্ঞানীরা জানান, পৃথিবী থেকে সূর্য ও চাঁদকে প্রায় একই আকারের দেখানোর কারণেই কখনো কখনো চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দিতে পারে। তখন দিনের আলো হঠাৎ কমে গিয়ে অল্প সময়ের জন্য চারপাশে রাতের মতো অন্ধকার নেমে আসে।
কতটা বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ?
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর পৃথিবীর কোথাও না কোথাও প্রায় দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ ঘটে। তবে এর মধ্যে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বিরল।
গড়ে কোনো নির্দিষ্ট স্থান থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পেতে কয়েক শত বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এ কারণেই প্রতিটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ জ্যোতির্বিজ্ঞানী, গবেষক ও সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণের বিষয়।
এবারের গ্রহণও তাই মহাকাশপ্রেমীদের জন্য বিশেষ এক আয়োজন। ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতোমধ্যে গ্রহণ দেখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আকাশে কয়েক মিনিটের জন্য তৈরি হবে এক বিরল ও মনোমুগ্ধকর মহাজাগতিক দৃশ্য।
প্রতিবেদকের নাম 




















