
খুলনায় দশম শ্রেণির ছাত্রী আরফান হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যার ঘটনায় আদালতে জবানবন্দি দিয়ে দায় স্বীকার করেছেন তার মা সীমা আক্তার। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে, ঘটনার পর থেকে নির্জনার বাবা মো. আলীম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেলে মা-মেয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সীমা আক্তার মেয়েকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারেন। এ সময় ঘরের ভেতরের শোরগোল শুনে বাবা আলীম হোসেন আকাশ এসে দুজনকে চুপ থাকতে বলেন। জবানবন্দি অনুযায়ী, নির্জনা চুপ না করায় তিনি একটি কাঠের লাকড়ি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে নির্জনার মরদেহ ঘরের ভেতরে থাকা একটি ছেঁড়া লুঙ্গি ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে করে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে আসেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, পরিবারের অমতে বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে নির্জনার সঙ্গে পরিবারের বিরোধ চলছিল। গত ২১ এপ্রিল তিনি তেরখাদা উপজেলার আজগড়া এলাকার মোস্তাফিজুর রহমানকে বিয়ে করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। ঘটনার দিনও তিনি শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে বুঝিয়ে আবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর বিকেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নির্জনার বাবা এখনও পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য জানাতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















