ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে দুই পক্ষই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ইস্যু উত্থাপন করেছে।
গত মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ফটোসেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের মূল বৈঠক শুরু হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন বিএসএফ ডিজি প্রবীন কুমার।
বিজিবির উদ্বেগ ও অভিযোগ
বৈঠকে বিজিবি সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতি তুলে ধরে বিএসএফের বিরুদ্ধে ‘পুশইন’ (জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ) চেষ্টার অভিযোগ জানায়। পাশাপাশি সীমান্তে বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বিজিবি আরও দাবি করে, সীমান্তে প্রাণঘাতী নয় (নন-লেথাল) অস্ত্র ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, মানবপাচার এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনের বিষয়েও জোরালোভাবে আলোচনা হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া বা যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ রাখার বিষয়টি উত্থাপন করে বিজিবি। সম্প্রতি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তের একটি ঘটনা উল্লেখ করে বিষয়টি আলোচনায় আনা হয়।
বিএসএফের অভিযোগ ও অবস্থান
অন্যদিকে বিএসএফ দাবি করে, সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হামলায় তাদের সদস্যরা আহত হচ্ছেন। তারা আরও অভিযোগ করে, সীমান্তবর্তী এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে।
বিএসএফের পক্ষ থেকে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, উন্নয়নমূলক কাজ পুনরায় শুরু এবং দুই দেশের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
উন্নয়ন ও সহযোগিতার প্রস্তাব
বৈঠকে উভয় পক্ষ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে একাধিক প্রস্তাব উত্থাপন করে। এর মধ্যে ছিল—
- তিনবিঘা করিডোর সংক্রান্ত যোগাযোগ উন্নয়ন
- সীমান্ত নদী ও খাল ব্যবস্থাপনা
- অপটিক্যাল ফাইবার ও অবকাঠামো উন্নয়ন
- অবৈধ ড্রোন ও আকাশসীমা লঙ্ঘন রোধ
- সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তথ্য আদান-প্রদান
- সীমান্তে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি
পরবর্তী দিক
উভয় পক্ষই সীমান্তে অপরাধ দমন ও উত্তেজনা কমাতে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। তবে পুশইন, সীমান্ত হত্যা ও অবকাঠামো নির্মাণ ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন থাকায় আলোচনাটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















