
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের উজ্জ্বল নক্ষত্র নেইমার জুনিয়র আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে কিংবদন্তি পেলের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড ভেঙে দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে পেলের ৭৭ গোলের রেকর্ড অতিক্রম করে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে আসেন নেইমার। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই অর্জন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ব্রাজিলের জার্সি গায়ে অতীতে খেলেছেন পেলে, রোনালদো, রোমারিও, রিভালদো ও রোনালদিনহোর মতো কিংবদন্তিরা।
নেইমারের ক্যারিয়ারের আরেকটি স্মরণীয় সাফল্য আসে ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে। তার নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো অলিম্পিক ফুটবলে স্বর্ণপদক জেতে ব্রাজিল। ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক শটটি নেন নেইমার নিজেই। একই আসরে হন্ডুরাসের বিপক্ষে অলিম্পিক ফুটবলের অন্যতম দ্রুততম গোলের রেকর্ডও গড়েন তিনি।
ইউরোপিয়ান ফুটবলেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন নেইমার। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজকে নিয়ে গড়া ‘এমএসএন’ ত্রয়ীর অন্যতম সদস্য হিসেবে ২০১৪-১৫ মৌসুমে ক্লাবটির ট্রেবল জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
২০১৭ সালে বার্সেলোনা ছেড়ে ২২২ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনে (পিএসজি) যোগ দিয়ে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দলবদলের রেকর্ডও গড়েন নেইমার, যা এখনো অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
মাঠের বাইরেও নেইমারের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি কোটি অনুসারী নিয়ে তিনি বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ও প্রভাবশালী ক্রীড়াবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
দীর্ঘ বিরতির পর ২৫ জুন ২০২৬ ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফেরেন নেইমার। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামতেই করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত এই তারকাকে চোখের জল মুছতে দেখা যায়। সেই দৃশ্য যেন আরও একবার প্রমাণ করে, নেইমার শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের আবেগ ও এক প্রজন্মের অনুপ্রেরণার প্রতীক।
প্রতিবেদকের নাম 




















