বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবনের নকশা করেছেন মার্কিন স্থপতি লুই কান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক স্থাপত্য নির্মাণে অনন্য অবদান রেখেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান খান। এ পারস্পরিক অবদানই প্রমাণ করে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসনের আয়োজন করা ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আজকের এই সাংস্কৃতিক আয়োজনও একই মানবিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে ধারণ করছে, যা দুই দেশের জনগণের সম্পর্ককে আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী করবে।
কায়সার কামাল বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বিদ্যমান অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং পারস্পরিক আস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত। রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহায়তা এ অংশীদারিত্বের অন্যতম উদাহরণ। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় দুই দেশের সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপন দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক।
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই ‘সব মানুষ সমান’—এই আদর্শকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল। স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীতে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।
অনুষ্ঠানে ককাস সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাসহ গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদকের নাম 




















