ঢাকা ০৭:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

বেসরকারি এতিমখানায় অনুদানের দ্বিতীয় কিস্তিতে ছাড় ১৪০ কোটি টাকা

  • arif
  • আপডেটের সময়: ০৫:৪৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ২ সময় দেখুন

দেশের বেসরকারি এতিমখানাগুলোর শিশুদের খাদ্য ও মৌলিক চাহিদা পূরণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় কিস্তির সরকারি ভাতা হিসেবে ১৪০ কোটি ১১ লাখ ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর এ অর্থ দেশের ৬৪ জেলার ৪ হাজার ২০৯টি বেসরকারি এতিমখানার ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৫৯ জন এতিম শিশুর অনুকূলে মঞ্জুর করা হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সম্প্রতি এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ‘বেসরকারি এতিমখানা’ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে দ্বিতীয় কিস্তির অনুদান হিসেবে এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট অর্থ সমাজসেবা অফিসার ও উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের অনুকূলে ন্যস্ত করা হয়েছে, যাতে তারা নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে এতিমখানাগুলোর মধ্যে অর্থ বিতরণ করতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ  ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির খসড়া ফাঁস করলো সিএনএন, যা আছে

সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ‘বেসরকারি এতিমখানা’ খাতে মোট ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ১৩৯ কোটি ৮৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ছাড় করা হয়েছিল। দ্বিতীয় কিস্তিতে আরও ১৪০ কোটি ১১ লাখ ৮ হাজার টাকা মঞ্জুর করায় পুরো বরাদ্দ অর্থই কার্যত বিতরণের আওতায় চলে এসেছে।

বরাদ্দের হিসাব অনুযায়ী, নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানাগুলোতে বসবাসরত ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৫৯ জন এতিম শিশুর জন্য মাসিক ২ হাজার টাকা হারে ৬ মাসের অনুদান দেওয়া হবে। অর্থাৎ ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য প্রতিটি শিশুর অনুকূলে মোট ১২ হাজার টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থ মূলত খাদ্যদ্রব্য ক্রয় এবং শিশুদের মৌলিক জীবনযাপনের প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  যোগ করা সময়ে ইরেনকির গোলে পানামাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু ঘানার

সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এতিম শিশুদের কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

এ কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানাগুলোতে অবস্থানরত শিশুদের খাদ্য, পুষ্টি ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। ফলে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অভিভাবকহীন শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে ‘সরকারি অনুদান বরাদ্দ ও বণ্টন নীতিমালা-২০১৪’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তাদের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অর্থ ছাড় ও ব্যবহারের বিষয়টি তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং চালানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  মেসির প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকে উড়ন্ত সূচনা, আলজেরিয়াকে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এতিম শিশুদের জন্য এ ধরনের সহায়তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দেশে অনেক এতিমখানা সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে পরিচালিত হয়। ফলে সরকারি অনুদানে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে খাদ্য ব্যয়, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং শিশুদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, বরাদ্দকৃত অর্থ যথাসময়ে বিতরণ হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার এতিম শিশুর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি বেসরকারি এতিমখানাগুলোর পরিচালন ব্যয় নির্বাহেও এ অনুদান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মোহাম্মদপুরে বাসার সামনে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

বেসরকারি এতিমখানায় অনুদানের দ্বিতীয় কিস্তিতে ছাড় ১৪০ কোটি টাকা

আপডেটের সময়: ০৫:৪৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

দেশের বেসরকারি এতিমখানাগুলোর শিশুদের খাদ্য ও মৌলিক চাহিদা পূরণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় কিস্তির সরকারি ভাতা হিসেবে ১৪০ কোটি ১১ লাখ ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর এ অর্থ দেশের ৬৪ জেলার ৪ হাজার ২০৯টি বেসরকারি এতিমখানার ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৫৯ জন এতিম শিশুর অনুকূলে মঞ্জুর করা হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে সম্প্রতি এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ‘বেসরকারি এতিমখানা’ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে দ্বিতীয় কিস্তির অনুদান হিসেবে এ অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট অর্থ সমাজসেবা অফিসার ও উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের অনুকূলে ন্যস্ত করা হয়েছে, যাতে তারা নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে এতিমখানাগুলোর মধ্যে অর্থ বিতরণ করতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ  যোগ করা সময়ে ইরেনকির গোলে পানামাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু ঘানার

সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ‘বেসরকারি এতিমখানা’ খাতে মোট ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ১৩৯ কোটি ৮৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ছাড় করা হয়েছিল। দ্বিতীয় কিস্তিতে আরও ১৪০ কোটি ১১ লাখ ৮ হাজার টাকা মঞ্জুর করায় পুরো বরাদ্দ অর্থই কার্যত বিতরণের আওতায় চলে এসেছে।

বরাদ্দের হিসাব অনুযায়ী, নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানাগুলোতে বসবাসরত ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৫৯ জন এতিম শিশুর জন্য মাসিক ২ হাজার টাকা হারে ৬ মাসের অনুদান দেওয়া হবে। অর্থাৎ ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য প্রতিটি শিশুর অনুকূলে মোট ১২ হাজার টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থ মূলত খাদ্যদ্রব্য ক্রয় এবং শিশুদের মৌলিক জীবনযাপনের প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির খসড়া ফাঁস করলো সিএনএন, যা আছে

সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এতিম শিশুদের কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

এ কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত বেসরকারি এতিমখানাগুলোতে অবস্থানরত শিশুদের খাদ্য, পুষ্টি ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। ফলে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অভিভাবকহীন শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, অর্থ বিতরণের ক্ষেত্রে ‘সরকারি অনুদান বরাদ্দ ও বণ্টন নীতিমালা-২০১৪’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তাদের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অর্থ ছাড় ও ব্যবহারের বিষয়টি তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং চালানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকায় আজ যেসব কর্মসূচি রয়েছে (১৮ জুন ২০২৬)

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এতিম শিশুদের জন্য এ ধরনের সহায়তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দেশে অনেক এতিমখানা সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে পরিচালিত হয়। ফলে সরকারি অনুদানে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে খাদ্য ব্যয়, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং শিশুদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, বরাদ্দকৃত অর্থ যথাসময়ে বিতরণ হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার এতিম শিশুর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি বেসরকারি এতিমখানাগুলোর পরিচালন ব্যয় নির্বাহেও এ অনুদান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।