ময়মনসিংহে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নেওয়া ১২টি খাল খনন ও পুনর্খনন প্রকল্পের মধ্যে ১০টির কাজ শেষ হয়েছে। তবে জমি-সংক্রান্ত জটিলতা এবং একটি খালে খননের প্রয়োজন না থাকায় বাকি দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এসব প্রকল্পের বরাদ্দসহ কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ মিলিয়ে মোট ৫ কোটি ৭৯ লাখ ১২ হাজার ৮৩০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ময়মনসিংহের ১০টি উপজেলায় ১২টি খাল খনন ও পুনর্খনন প্রকল্পের জন্য মোট ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩১৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এসব প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪৫ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনর্খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
এর মধ্যে সদর ও ফুলপুর উপজেলার দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়নি। ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের জারুল খাল পুনর্খননের জন্য ১ কোটি ৫৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৮৫ টাকা বরাদ্দ ছিল। পরিদর্শনে দেখা যায়, খালটিতে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ ও প্রয়োজনীয় গভীরতা রয়েছে। ফলে সেখানে পুনর্খননের প্রয়োজন না থাকায় প্রকল্পটি বাতিল করা হয় এবং বরাদ্দের পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সদর উপজেলার চকশ্যামরামপুর খাল খননের জন্য ৮৩ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু খালের জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় প্রকল্পটির কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে বিকল্প কোনো খাল খননের জন্য প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও তা অনুমোদন না পাওয়ায় এই প্রকল্পের বরাদ্দও ফেরত দেওয়া হয়।
এ দুটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া মোট ২ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৮৮৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। পাশাপাশি বাস্তবায়িত ১০টি প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত আরও ৩ কোটি ৪১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৪৫ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে খাল খনন কর্মসূচির ৫ কোটি ৭৯ লাখ ১২ হাজার ৮৩০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত গেছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, যেসব খালের খনন ও পুনর্খননের কাজ শেষ হয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সহজ হবে এবং জলাবদ্ধতা কমবে। একই সঙ্গে কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো বর্ষা ও মৌসুমি বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ভবিষ্যতে খাল খননের প্রকল্প নেওয়ার আগে জমির মালিকানা, মামলা-মোকদ্দমা এবং খননের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা আরও ভালোভাবে যাচাই করা হলে অপ্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও অর্থ ফেরতের মতো পরিস্থিতি কমানো সম্ভব হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















