টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে ভোলার মনপুরায় মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপকূলীয় বেড়িবাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল ৩ থেকে ৪ ফুট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় গত চার দিনের বর্ষণে মনপুরার মূল ভূখণ্ডে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনপুরা থেকে বিচ্ছিন্ন চরকলাতলী, ডালচর ও কাজীর চরেও ৩ থেকে ৪ ফুট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা জানান, মেঘনার পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে মনপুরার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন উত্তর সাকুচিয়া, দক্ষিণ সাকুচিয়া, হাজিরহাট ও মনপুরা ইউনিয়নের আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দারা। গত তিন দিন ধরে তাদের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে থাকায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না। কেউ উপোস থাকছেন, আবার কেউ শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
এ ছাড়া উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ২ থেকে ৩ ফুট পানি জমে থাকায় খেটে খাওয়া মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। অনেক হাট-বাজার বন্ধ রয়েছে এবং মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে পারছেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মনপুরায় পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না রেখেই চারপাশে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে। ফলে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















