ঢাকা ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
এমপিদের বেতন ৫ লাখ, মন্ত্রীদের ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব নুরুল হক নুরের রাষ্ট্রপতি পদে ড. ইউনূসকে কোনো প্রস্তাব নয়, আলোচনায় মির্জা ফখরুল: প্রতিবেদন মুরগি, ডিম ও দুধের দাম আবারও বেড়েছে, কমেছে কাঁচামরিচ; কিছুটা স্বস্তিতে সবজির বাজার ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে ঘিরে চাপ বাড়ছে, পাশে আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকো ‘এক দফা’ আন্দোলনের নেপথ্যের প্রেক্ষাপট নিয়ে ফেসবুক পোস্টে যা বললেন রাশেদ খাঁন হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়ল অপরিশোধিত তেলের দা বিদেশফেরত শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে উন্নয়নে কাজে লাগাতে চায় সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা: শিশুসহ নিহত ৯, দায় বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিং বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা: নিহত ৭, আহত অন্তত ২৩ ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ঘোষণা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

রাজশাহী স্বামী হত্যার বিচার চান না পরিবানু

  • arif
  • আপডেটের সময়: ০৮:১০:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ২৫ সময় দেখুন

আওয়ামী লীগের এক নেতার ভাইকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল রাজশাহী নগরের দড়িখড়বোনা এলাকায়। গত বছরের ৬ মার্চের সেই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে এক পক্ষের হাতে ছুরিকাহত হন রিকশাচালক গোলাম হোসেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ মার্চ মৃত্যু হয় তাঁর।

এ বিষয়ে ১৩ মার্চ নগরের বোয়ালিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন গোলাম হোসেনের স্ত্রী পরিবানু বেগম। মামলায় আসামিদের মধ্যে ছয়জনের নাম উল্লেখ আছে। তাঁরা হলেন নগরের শাহ মখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক সুমন সরদার, চন্দ্রিমা থানা বিএনপির আহ্বায়ক ফাইজুর হক, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেকসহ আরও তিনজন।

এদিকে মামলা করার পর পরিস্থিতি বিপক্ষে চলে যায় পরিবানুর। তিনি নগর ছাড়তে বাধ্য হন। তবে মাসখানেক আগে নগরে ফিরলেও তাঁর কণ্ঠে অন্য সুর। তিনি আর স্বামী হত্যার বিচার চান না। অবশ্য এত দিনে ওই মামলার কোনো আসামিও গ্রেপ্তার হননি। তাঁরা ঘুরছেন প্রকাশ্যেই। অংশ নিচ্ছেন দলীয় কর্মসূচিতে।

আরও পড়ুনঃ  ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় সংবিধান সংশোধনের আহ্বান টিআইবির

রিকশাচালক গোলাম হোসেন থাকতেন দড়িখড়বোনা এলাকার রেললাইনের পাশে ছোট্ট টিনশেড ঘরে। স্বামীর মৃত্যুর পর এক মাসও এই বাড়িতে থাকতে পারেননি পরিবানু। হঠাৎ গত ২৭ জুন সকালে নগরের রেলগেট এলাকায় পরিবানুর দেখা পাওয়া যায়। পরিবানু জানান, একটা খাবারের হোটেলে কাজ নিয়েছেন। তবে তিনি স্বামী হত্যার বিচার চান না আর। মামলা চালাবেন না। এত দিন কোথায় ছিলেন, জানতে চাইলে পরিবানু দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, ‘ছিলাম’।

কেন শহরে ছিলেন না জানতে চাইলে বলেন, ‘যে কয়দিন ছিলাম কোনো স্বস্তি ছিল না। দিনে তো লোকজন আসত, রাতবিরাতেও অচেনা লোকজন বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করত। তারা বলত, এই মামলাটা তাদের মতো করে চালাতে হবে। তাই শহর থেকে চলে গিয়েছিলাম।’

আরও পড়ুনঃ  ইনফান্তিনোর পাশে নেই সার্বিয়া-সুইডেন, ফিফা সভাপতির নেতৃত্ব নিয়ে বাড়ছে চাপ

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবানু বলেন, ‘মামলা তো আর চালাব না। আসামিরা কেউ ধরা পড়েনি।’ পরিবানু জানান, তিনি যখন শহরে ছিলেন না, তখন মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ডেকে পাঠান। তিনি তাঁর চেম্বারে গিয়ে দেখা করেন। পরিবানু বলেন, ‘আমাকে তিনি বললেন, “তুমি কি মামলা চালাতে পারবা? না চালালে কিছু টাকা নিয়ে আপস করে নাও।” আমি তখন কিছুদিন সময় নিই। পরে তিনি আবার ডেকে পাঠান। এবার এসে চিন্তাভাবনা করে আমি জানাই, মামলা চালাব না। তখন আমাকে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুনঃ  ‘বিপ্লব সফল হলেও মানুষের কষ্ট কমেনি’—নাহিদ ইসলামের আক্ষেপ

এই মামলা আপসের বিষয়ে জানতে চাইলে কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আপনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে প্রশ্নটা করলেন। আইন আইনের গতিতেই চলবে।’

থানা সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে আসামি (শাহ মখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক) সুমন সরদার ও (চন্দ্রিমা থানা বিএনপির আহ্বায়ক) ফাইজুর হক অভিযোগপত্র থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। অব্যাহতি দেওয়ার জন্য উচ্চ পর্যায় থেকে সুপারিশও করা হয়েছে।

বোয়ালিয়া থানার ওসি মাছুমা মুস্তারী বলেন, ‘মামলার তদন্ত প্রায় শেষের দিকে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত বলা যাবে।’ আসামিদের গ্রেপ্তার না করার ব্যাপারে ওসি বলেন, ‘আসামিদের পাওয়া যায় না।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

এমপিদের বেতন ৫ লাখ, মন্ত্রীদের ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব নুরুল হক নুরের

রাজশাহী স্বামী হত্যার বিচার চান না পরিবানু

আপডেটের সময়: ০৮:১০:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

আওয়ামী লীগের এক নেতার ভাইকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল রাজশাহী নগরের দড়িখড়বোনা এলাকায়। গত বছরের ৬ মার্চের সেই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে এক পক্ষের হাতে ছুরিকাহত হন রিকশাচালক গোলাম হোসেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ মার্চ মৃত্যু হয় তাঁর।

এ বিষয়ে ১৩ মার্চ নগরের বোয়ালিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন গোলাম হোসেনের স্ত্রী পরিবানু বেগম। মামলায় আসামিদের মধ্যে ছয়জনের নাম উল্লেখ আছে। তাঁরা হলেন নগরের শাহ মখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক সুমন সরদার, চন্দ্রিমা থানা বিএনপির আহ্বায়ক ফাইজুর হক, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেকসহ আরও তিনজন।

এদিকে মামলা করার পর পরিস্থিতি বিপক্ষে চলে যায় পরিবানুর। তিনি নগর ছাড়তে বাধ্য হন। তবে মাসখানেক আগে নগরে ফিরলেও তাঁর কণ্ঠে অন্য সুর। তিনি আর স্বামী হত্যার বিচার চান না। অবশ্য এত দিনে ওই মামলার কোনো আসামিও গ্রেপ্তার হননি। তাঁরা ঘুরছেন প্রকাশ্যেই। অংশ নিচ্ছেন দলীয় কর্মসূচিতে।

আরও পড়ুনঃ  বিরোধী জোট ছাড়াই সংবিধান সংশোধনের কাজ শুরু করছে সরকার

রিকশাচালক গোলাম হোসেন থাকতেন দড়িখড়বোনা এলাকার রেললাইনের পাশে ছোট্ট টিনশেড ঘরে। স্বামীর মৃত্যুর পর এক মাসও এই বাড়িতে থাকতে পারেননি পরিবানু। হঠাৎ গত ২৭ জুন সকালে নগরের রেলগেট এলাকায় পরিবানুর দেখা পাওয়া যায়। পরিবানু জানান, একটা খাবারের হোটেলে কাজ নিয়েছেন। তবে তিনি স্বামী হত্যার বিচার চান না আর। মামলা চালাবেন না। এত দিন কোথায় ছিলেন, জানতে চাইলে পরিবানু দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, ‘ছিলাম’।

কেন শহরে ছিলেন না জানতে চাইলে বলেন, ‘যে কয়দিন ছিলাম কোনো স্বস্তি ছিল না। দিনে তো লোকজন আসত, রাতবিরাতেও অচেনা লোকজন বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করত। তারা বলত, এই মামলাটা তাদের মতো করে চালাতে হবে। তাই শহর থেকে চলে গিয়েছিলাম।’

আরও পড়ুনঃ  ‘বাংলাদেশে জন্ম নিয়েই ভুল করেছি’—ফেসবুক লাইভে কান্নায় ভেঙে পড়লেন জ্যোতিকা জ্যোতি

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবানু বলেন, ‘মামলা তো আর চালাব না। আসামিরা কেউ ধরা পড়েনি।’ পরিবানু জানান, তিনি যখন শহরে ছিলেন না, তখন মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ডেকে পাঠান। তিনি তাঁর চেম্বারে গিয়ে দেখা করেন। পরিবানু বলেন, ‘আমাকে তিনি বললেন, “তুমি কি মামলা চালাতে পারবা? না চালালে কিছু টাকা নিয়ে আপস করে নাও।” আমি তখন কিছুদিন সময় নিই। পরে তিনি আবার ডেকে পাঠান। এবার এসে চিন্তাভাবনা করে আমি জানাই, মামলা চালাব না। তখন আমাকে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুনঃ  ‘চ্যালেঞ্জিং গল্প পেলে ফিরব’— শাকিবকে সিনেমার প্রতিশ্রুতি দিলেন ববিতা

এই মামলা আপসের বিষয়ে জানতে চাইলে কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আপনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে প্রশ্নটা করলেন। আইন আইনের গতিতেই চলবে।’

থানা সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে আসামি (শাহ মখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক) সুমন সরদার ও (চন্দ্রিমা থানা বিএনপির আহ্বায়ক) ফাইজুর হক অভিযোগপত্র থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন। অব্যাহতি দেওয়ার জন্য উচ্চ পর্যায় থেকে সুপারিশও করা হয়েছে।

বোয়ালিয়া থানার ওসি মাছুমা মুস্তারী বলেন, ‘মামলার তদন্ত প্রায় শেষের দিকে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত বলা যাবে।’ আসামিদের গ্রেপ্তার না করার ব্যাপারে ওসি বলেন, ‘আসামিদের পাওয়া যায় না।’