নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ অক্টোবর ২০২৬
দেশের স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ বরাদ্দ এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) জার্মানির বার্লিনে ‘মিডওয়াইফারি ত্বরান্বিতকরণ ও স্বাস্থ্যনিরাপত্তায় দক্ষিণ-দক্ষিণ অংশীদারত্ব: সংকট থেকে সহনশীলতার পথে’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
মা ও নবজাতকের সেবায় মিডওয়াইফদের গুরুত্ব
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মা ও নবজাতকের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মিডওয়াইফরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের মাধ্যমে গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ প্রসব, জরুরি চিকিৎসার জন্য রেফারেল এবং প্রসব-পরবর্তী সেবার মান উন্নত করা সম্ভব।
তিনি বলেন, মিডওয়াইফদের পেছনে বিনিয়োগকে ব্যয় হিসেবে নয়, বরং মা ও নবজাতকের মৃত্যুহার কমানো এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যয় হ্রাসের কার্যকর জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে সরকার।
৬২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো আধুনিকায়ন
মিডওয়াইফারি শিক্ষার মান উন্নয়নে দেশের ৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, সিমুলেশনভিত্তিক শিক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশ নেপাল ও পাকিস্তানের সঙ্গে জ্ঞান ও শিক্ষক বিনিময় এবং যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করছে।
এ সময় মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রজননস্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে উন্নয়ন সহযোগীদের, বিশেষ করে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) অবদানের প্রশংসা করেন তিনি।
দুর্যোগ ও সংকটেও সেবা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে মিডওয়াইফদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সংকটকালেও জীবনরক্ষাকারী মাতৃস্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে মিডওয়াইফরা সম্মুখসারিতে কাজ করছেন। নারী ও শিশুর সুরক্ষা এবং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির স্বার্থে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও এ খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রতিবেদকের নাম 
























