ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

রাঙ্গামাটির পাহাড়ধসের ৯ বছর: ১২০ প্রাণের পরও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি অপরিবর্তিত

 

রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসের নয় বছর পূর্ণ হলো শনিবার (১৩ জুন)। ২০১৭ সালের এই দিনে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে সেনাসদস্যসহ প্রায় ১২০ জনের মৃত্যু হয়। এত বড় বিপর্যয়ের বছর পার হলেও এখনো পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি; বরং কিছু এলাকায় তা বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই বিপর্যয়ে রাঙ্গামাটি সদরে ৬৬ জন, কাউখালীতে ২১ জন, কাপ্তাইয়ে ১৮ জন, জুরাছড়িতে ৬ জন এবং বিলাইছড়িতে ২ জনসহ মোট ১১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে ছিলেন নারী, পুরুষ ও শিশুও। এছাড়া পৃথক ঘটনায় সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যও নিহত হন।

আরও পড়ুনঃ  এবার ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করলেন ট্রাম্প

ওই সময় পাহাড়ধসে রাঙ্গামাটি–চট্টগ্রাম সড়কসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। পরে সেনাবাহিনী ও সড়ক বিভাগের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৭ সালের ওই ধস ছিল রাঙ্গামাটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি। সেই ঘটনার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  বিএনপিকে ‘মাফিয়া-গোষ্ঠীনির্ভর’ কাঠামোয় পরিণত হওয়ার অভিযোগ পাটওয়ারীর

পরবর্তী বছরগুলোতেও পাহাড়ধস থামেনি। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে পৃথক ঘটনায় আবারও প্রাণহানির খবর আসে।

জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় এখনো প্রায় শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রয়েছে এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষ পাহাড়ের ঢালে বসবাস করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিকল্প বাসস্থানের অভাবে বাধ্য হয়েই তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকছেন। বর্ষা এলে আতঙ্ক বাড়ে, কিন্তু স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থেকে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  গ্যাসের সংকটে সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, বাড়ছে চালকদের দুর্ভোগ

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাঙ্গামাটি শাখার প্রতিনিধিরা মনে করেন, শুধু মৌসুমি সতর্কতা নয়, পাহাড়ে অবৈধ বসতি স্থাপন বন্ধে কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। তবে ভূমি ব্যবস্থাপনার জটিলতার কারণে এ কাজ সময়সাপেক্ষ বলে তারা উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাহাড়ের ঢালে বসতি নির্মাণে কঠোর নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা না গেলে ভবিষ্যতেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি থেকে যাবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

রাঙ্গামাটির পাহাড়ধসের ৯ বছর: ১২০ প্রাণের পরও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি অপরিবর্তিত

আপডেটের সময়: ০২:০৯:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

 

রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসের নয় বছর পূর্ণ হলো শনিবার (১৩ জুন)। ২০১৭ সালের এই দিনে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে সেনাসদস্যসহ প্রায় ১২০ জনের মৃত্যু হয়। এত বড় বিপর্যয়ের বছর পার হলেও এখনো পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি; বরং কিছু এলাকায় তা বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই বিপর্যয়ে রাঙ্গামাটি সদরে ৬৬ জন, কাউখালীতে ২১ জন, কাপ্তাইয়ে ১৮ জন, জুরাছড়িতে ৬ জন এবং বিলাইছড়িতে ২ জনসহ মোট ১১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে ছিলেন নারী, পুরুষ ও শিশুও। এছাড়া পৃথক ঘটনায় সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যও নিহত হন।

আরও পড়ুনঃ  এবার ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করলেন ট্রাম্প

ওই সময় পাহাড়ধসে রাঙ্গামাটি–চট্টগ্রাম সড়কসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। পরে সেনাবাহিনী ও সড়ক বিভাগের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৭ সালের ওই ধস ছিল রাঙ্গামাটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি। সেই ঘটনার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মালদ্বীপের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

পরবর্তী বছরগুলোতেও পাহাড়ধস থামেনি। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে পৃথক ঘটনায় আবারও প্রাণহানির খবর আসে।

জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় এখনো প্রায় শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রয়েছে এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষ পাহাড়ের ঢালে বসবাস করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিকল্প বাসস্থানের অভাবে বাধ্য হয়েই তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকছেন। বর্ষা এলে আতঙ্ক বাড়ে, কিন্তু স্থায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ না থাকায় পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থেকে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তন, এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন ও স্বরাষ্ট্রে এ্যানি

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাঙ্গামাটি শাখার প্রতিনিধিরা মনে করেন, শুধু মৌসুমি সতর্কতা নয়, পাহাড়ে অবৈধ বসতি স্থাপন বন্ধে কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। তবে ভূমি ব্যবস্থাপনার জটিলতার কারণে এ কাজ সময়সাপেক্ষ বলে তারা উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাহাড়ের ঢালে বসতি নির্মাণে কঠোর নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা না গেলে ভবিষ্যতেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি থেকে যাবে।