ঢাকা ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা, নিষিদ্ধ সংগঠনের ওপর থাকবে গোয়েন্দা নজরদারি জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঐক্য, সাহস ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক: ড. মুহাম্মদ ইউনূস বগুড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি, শহিদ পরিবারকে সম্মাননা প্রধানমন্ত্রীর সিল-স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণা, সংঘবদ্ধ চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার ‘বিপ্লব সফল হলেও মানুষের কষ্ট কমেনি’—নাহিদ ইসলামের আক্ষেপ ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান: শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বিশ্ব যা বলেছিল ‘৫ আগস্ট বিজয় ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দিন’ আজ ঐতিহাসিক জু/লা/ই গ/ণ/অ/ভ্যু/ত্থা/ন দি/ব/স, দেশজুড়ে নানা আ/য়ো/জ/নে পালিত হচ্ছে দ্বি/তী/য় ব/র্ষ/পূ/র্তি বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় ৮ ব্র্যান্ডের স্কিনক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রার মার্কারি, ব্যবহার না করার সতর্কতা নবনিযুক্ত আইন কর্মকর্তাদের নিয়ে জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

শ্রমিকের মজুরি ১২০০, ধানের মণ ৮০০ টাকা

 

‘ধানের মণ ৮০০ টাকা, আর একজন শ্রমিকের মজুরি ১২০০ টাকা। তাহলে আমরা খামু কি, আর বেচমুই বা কি?’—হতাশাভরা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ধান কাটার মাঠে দাঁড়িয়ে নিজের লোকসানের হিসাব মিলাচ্ছিলেন তিনি।

চলতি বোরো মৌসুমে জামালপুর জেলায় ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। সোনালি ধানে মাঠ ভরে উঠলেও উৎপাদন খরচ ও শ্রমিকের আকাশছোঁয়া মজুরির কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষে খরচ হচ্ছে প্রায় ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ ও পরিচর্যা খরচ তো আছেই, তার ওপর যোগ হয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট।

আরও পড়ুনঃ  বিনিয়োগে গতি আনতে নীতি সুদহার কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক, নতুন হার ৯.৫০ শতাংশ

এক বিঘা জমির ধান কাটতে অন্তত আটজন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। ১২০০ টাকা মজুরি হিসেবে শুধুমাত্র ধান কাটতেই খরচ পড়ছে ৯ হাজার ৬০০ টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ২৪-২৫ মণ ধান উৎপাদন হলেও বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী (৮০০ টাকা মণ) বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০ হাজার টাকার মতো।

আরও পড়ুনঃ  চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্তে বড় রেল প্রকল্প নিচ্ছে ভারত

ফলে প্রতিটি বিঘা জমিতে কৃষকদের তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, “সব খরচ মিটিয়ে আসল টাকাই উঠছে না, লাভ তো দূরের কথা।”

মেলান্দহের কৃষক সুরুজ মিয়া জানান, অনেক বছর ধরে বাবার সাথে এবং পরবর্তীতে নিজে চাষাবাদ করলেও এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েননি কখনো। তিনি বলেন, “সবকিছুর দাম বাড়ছে, শ্রমিকের মজুরি ১২০০ অথচ ধানের দাম মাত্র ৮০০ টাকা। ৯ বিঘা জমির ওপর আমার সংসার চলে, এবার কী হবে আল্লাহ ভালো জানেন।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জামালপুরে ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও বাজারমূল্য নিয়ে কৃষকদের এই হাহাকার কাম্য নয়।

আরও পড়ুনঃ  সুদানে আদালতে ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ৩৫

জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান এ বিষয়ে বলেন, “আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি তারা যেন এখনই সব ধান বিক্রি না করে এক বা দুই মাস পর বিক্রি করেন। এছাড়া সরকারি গুদামে ধান দিলে তারা বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দাম পাবেন। তবে পাইকারদের কাছে কম দামে বিক্রি করলে আমাদের সরাসরি কিছু করার থাকে না।”

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা, নিষিদ্ধ সংগঠনের ওপর থাকবে গোয়েন্দা নজরদারি

শ্রমিকের মজুরি ১২০০, ধানের মণ ৮০০ টাকা

আপডেটের সময়: ০৯:৩৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

 

‘ধানের মণ ৮০০ টাকা, আর একজন শ্রমিকের মজুরি ১২০০ টাকা। তাহলে আমরা খামু কি, আর বেচমুই বা কি?’—হতাশাভরা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ধান কাটার মাঠে দাঁড়িয়ে নিজের লোকসানের হিসাব মিলাচ্ছিলেন তিনি।

চলতি বোরো মৌসুমে জামালপুর জেলায় ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। সোনালি ধানে মাঠ ভরে উঠলেও উৎপাদন খরচ ও শ্রমিকের আকাশছোঁয়া মজুরির কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষে খরচ হচ্ছে প্রায় ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ ও পরিচর্যা খরচ তো আছেই, তার ওপর যোগ হয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট।

আরও পড়ুনঃ  প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ হওয়ার দাবি জেলেনস্কির

এক বিঘা জমির ধান কাটতে অন্তত আটজন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। ১২০০ টাকা মজুরি হিসেবে শুধুমাত্র ধান কাটতেই খরচ পড়ছে ৯ হাজার ৬০০ টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ২৪-২৫ মণ ধান উৎপাদন হলেও বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী (৮০০ টাকা মণ) বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০ হাজার টাকার মতো।

আরও পড়ুনঃ  বিনিয়োগে গতি আনতে নীতি সুদহার কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক, নতুন হার ৯.৫০ শতাংশ

ফলে প্রতিটি বিঘা জমিতে কৃষকদের তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, “সব খরচ মিটিয়ে আসল টাকাই উঠছে না, লাভ তো দূরের কথা।”

মেলান্দহের কৃষক সুরুজ মিয়া জানান, অনেক বছর ধরে বাবার সাথে এবং পরবর্তীতে নিজে চাষাবাদ করলেও এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েননি কখনো। তিনি বলেন, “সবকিছুর দাম বাড়ছে, শ্রমিকের মজুরি ১২০০ অথচ ধানের দাম মাত্র ৮০০ টাকা। ৯ বিঘা জমির ওপর আমার সংসার চলে, এবার কী হবে আল্লাহ ভালো জানেন।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জামালপুরে ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও বাজারমূল্য নিয়ে কৃষকদের এই হাহাকার কাম্য নয়।

আরও পড়ুনঃ  জুলাইয়ের অর্জন ১৮ কোটি মানুষের, কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়: জামায়াত আমির

জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান এ বিষয়ে বলেন, “আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি তারা যেন এখনই সব ধান বিক্রি না করে এক বা দুই মাস পর বিক্রি করেন। এছাড়া সরকারি গুদামে ধান দিলে তারা বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দাম পাবেন। তবে পাইকারদের কাছে কম দামে বিক্রি করলে আমাদের সরাসরি কিছু করার থাকে না।”