২০২৭ সালের পবিত্র হজকে সামনে রেখে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হলেও প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় একাধিক হজ প্যাকেজ ঘোষণা এবং তিন দিনের হজ মেলা আয়োজনের পরও নিবন্ধনের হার অত্যন্ত কম। প্রাথমিক নিবন্ধন শুরুর সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৭৯ জন, যাদের সবাই সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে আগ্রহী। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এখনো একজনও নিবন্ধন করেননি।
হজ এজেন্সির মালিকরা বলছেন, বিমান ভাড়া কিছুটা কমলেও সৌদি আরবে আবাসন, পরিবহন, ক্যাটারিংসহ বিভিন্ন সেবার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় হজের মোট খরচ কমেনি। পাশাপাশি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবও হজযাত্রীদের সিদ্ধান্তে পড়ছে। তাদের আশঙ্কা, গত দুই বছরের মতো ২০২৭ সালেও বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীর সংখ্যা কম হতে পারে।
গত বছর (২০২৬) সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের (খাবার ছাড়া) মূল্য ছিল ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৭ টাকা। আর ২০২৭ সালের সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকার বেশি।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এবার প্যাকেজে নতুন করে খাবারের খরচ যুক্ত হয়েছে, যার পরিমাণ ৩৯ হাজার ৫০৮ টাকা। এছাড়া মিনা ও আরাফাতে সৌদি সরকারের সর্বনিম্ন ‘ডি’ ক্যাটাগরি বাতিল হওয়ায় ব্যয় বেড়েছে ৭০০ সৌদি রিয়াল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩ হাজার ২৪০ টাকা। বিনিময় হারজনিত কারণেও অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার ৮২৫ টাকা ব্যয় বেড়েছে। এসব কারণে বিমান ভাড়া কমলেও সামগ্রিক প্যাকেজের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, সৌদি সরকারের নতুন নিয়মে ক্যাটারিং সার্ভিস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘ডি’ ক্যাটাগরি প্রত্যাহারসহ আরও কিছু সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য ব্যয় ও ভোগান্তি বাড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
হাবের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব মাওলানা ইয়াকুব শরাফতী বলেন, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রভাব এবারও হজযাত্রায় পড়বে। বিমান ভাড়া কিছুটা কমলেও আবাসন, পরিবহন, মোয়াল্লেম ও ক্যাটারিংসহ বিভিন্ন সেবার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মোট খরচ কমেনি। তিনি মনে করেন, এবারও হজযাত্রীর সংখ্যা কোটার তুলনায় কম থাকতে পারে।
নিবন্ধনে ধীরগতির বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, যারা হজে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিবন্ধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি জানান, সৌদি আরবের নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগ নেই।
এদিকে, বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, ২০২৬ সালের সফল হজ ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের ব্যয় আরও কমিয়ে আনতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















