পটুয়াখালীর পায়রা নদীতে তীব্র ভাঙন আবারও আতঙ্ক ছড়িয়েছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে। বর্ষার শুরুতেই নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় ফসলি জমি, বসতঘর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, কয়েক দশক ধরে পায়রা নদীর তীব্র স্রোতে পটুয়াখালীর বিভিন্ন গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এবারও বর্ষার শুরুতেই ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলার পিঁপড়াখালী গ্রামের বাসিন্দা খবির শিকদার জানান, নদীভাঙনে তিনি ইতোমধ্যে পাঁচবার বসতভিটা ও জমি হারিয়েছেন। নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় আবারও সবকিছু হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙনের কারণে অনেকের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিশেষ করে পিঁপড়াখালী, সুন্দরা কালিকাপুর ও কালিকাপুর গ্রামের বহু পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এক বাসিন্দা জানান, তার বাড়িটি ইতোমধ্যে হেলে পড়েছে এবং যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দুমকি উপজেলার বাহেরচর, আঙ্গারিয়া এবং মির্জাগঞ্জের কয়েকটি গ্রাম বছরের পর বছর নদীভাঙনের শিকার হলেও টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মো. শাহজাহান খান বলেন, স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে স্থানীয় মানুষ দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।
এদিকে, পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, চলতি বছর নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রায় ৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার করা হয়েছে। তবে এখনও প্রায় ১০ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোর ওপর নিয়মিত নজরদারি রাখা হচ্ছে। কোথাও পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তাদের জীবন-জীবিকা এবং বসতভিটা রক্ষা করা হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















