ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
‘বিশ্বকাপ কোনো পণ্য নয়, ফুটবল বিক্রির অধিকার ফিফার নেই’: উয়েফা চীনে ভয়াবহ ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ ভিনিসিয়ুসকে দলে টানতে প্রস্তুত আর্সেনাল, চুক্তি বাড়াতে মরিয়া রিয়াল মাদ্রিদ বিপিএল না হলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা তাওহীদ হৃদয়ের সময়মতো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় শিল্পখাতে গ্যাস সংকট: বিটিএমএ সভাপতি, সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর আইএমএফের সবুজসংকেত পেলেই নবম পে স্কেল ঘোষণা সিআইডির নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান, বিপাকে বরগুনার দুই সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে চীনের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের উদ্যোগ ইরানের হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা এনসিপির, মৌলভীবাজারের পদযাত্রা স্থগিত
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

চীনে ২০৩১ সালের মধ্যে ঋণ দেওয়া বন্ধের পরিকল্পনা বিশ্বব্যাংকের

  • arif
  • আপডেটের সময়: ০৭:১০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ১৩ সময় দেখুন

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনে ঋণ দেওয়ার কার্যক্রম ২০৩১ সালের মধ্যে ধীরে ধীরে বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে বিশ্বব্যাংক।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত চীনের জন্য নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ)-এ বিশ্বব্যাংক জানায়, আগামী কয়েক বছরে চীনে তাদের ঋণ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা হবে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ (ডব্লিউবিজি) জানায়, সিপিএফ কার্যকালের মধ্যে আন্তর্জাতিক ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইবিআরডি)-এর মাধ্যমে দেওয়া ঋণের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমানো হবে। এই সময়ে আইবিআরডির ঋণ সহায়তা সর্বোচ্চ ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের মধ্যে সীমিত থাকবে।

সিপিএফ হলো বিশ্বব্যাংক ও কোনো অংশীদার দেশের মধ্যে সম্মত একটি বহু বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা, যেখানে উন্নয়নের অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলো নির্ধারণ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ১৫ দিনে ২০০ মার্কিন সেনা নিহতের দাবি ইরানের

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ জানায়, নীতিগতভাবে সিপিএফের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আইবিআরডি থেকে নতুন করে কোনো ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হবে বলে আশা করা হচ্ছে না।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ জানায়, পাঁচ বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনা চীনের সঙ্গে তাদের ৪৫ বছরের অংশীদারত্বের নতুন এক পর্যায়ের সূচনা করবে। চীন এখন আর প্রধানত অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং দেশটির প্রয়োজন হচ্ছে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও জ্ঞান বিনিময়।

বিশ্বব্যাংকের পরিচালন বিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনা বিয়েরদে বলেন, ‘আমাদের অংশীদারত্বের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমরা ক্রমেই জ্ঞান, উদ্ভাবন ও যৌথ সমাধানের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের অর্থনীতির দ্রুত প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্যের হার কমে আসার কারণে দেশটিতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ দেওয়ার পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমেছে।

আরও পড়ুনঃ  প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে সেমিকন্ডাক্টর খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব: প্রধানমন্ত্রী

বিয়েরদে বলেন, ‘চীন যখন বয়স্ক জনসংখ্যা, পরিবর্তনশীল অর্থনীতি এবং অন্যান্য উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তখন আমরা তার সঙ্গে কাজ করে এমন ধারণা ও সমাধান তৈরি করতে চাই, যা শুধু চীন নয়, বিশ্বের অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।’

চীনের উপ-অর্থমন্ত্রী লিয়াও মিন বলেন, ঋণ বিষয়ক সম্পর্কের পরিবর্তন হলেও চীন বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীরভাবে চালিয়ে যাবে।

বিশ্বব্যাংক ও চীনের মধ্যে নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার পাশাপাশি উন্নত কর্মসংস্থান, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং কম কার্বন নিঃসরণভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে চীনকে ঋণ দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  আপত্তি উপেক্ষা করে আবারও জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার তুর্ক

ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদেও একই ধরনের অবস্থান বজায় রেখেছেন, তবে এবার তিনি সেই দাবিটির পুনরাবৃত্তি করেননি।

বিশ্বব্যাংকের চীনকে দেওয়া ঋণ ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে ২০২৫ সালে তা কমে ৭৫০ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

এদিকে, বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) তহবিলেও চীন অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে। সর্বশেষ তহবিল পুনর্গঠন কার্যক্রমে চীন ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে। এর ফলে বেইজিং আইডিএর পঞ্চম বৃহত্তম দাতা দেশে পরিণত হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘বিশ্বকাপ কোনো পণ্য নয়, ফুটবল বিক্রির অধিকার ফিফার নেই’: উয়েফা

চীনে ২০৩১ সালের মধ্যে ঋণ দেওয়া বন্ধের পরিকল্পনা বিশ্বব্যাংকের

আপডেটের সময়: ০৭:১০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনে ঋণ দেওয়ার কার্যক্রম ২০৩১ সালের মধ্যে ধীরে ধীরে বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে বিশ্বব্যাংক।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত চীনের জন্য নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ)-এ বিশ্বব্যাংক জানায়, আগামী কয়েক বছরে চীনে তাদের ঋণ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা হবে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ (ডব্লিউবিজি) জানায়, সিপিএফ কার্যকালের মধ্যে আন্তর্জাতিক ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইবিআরডি)-এর মাধ্যমে দেওয়া ঋণের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমানো হবে। এই সময়ে আইবিআরডির ঋণ সহায়তা সর্বোচ্চ ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের মধ্যে সীমিত থাকবে।

সিপিএফ হলো বিশ্বব্যাংক ও কোনো অংশীদার দেশের মধ্যে সম্মত একটি বহু বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা, যেখানে উন্নয়নের অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলো নির্ধারণ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ৫০৩, উদ্ধার মাদক ও স্বর্ণালংকার

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ জানায়, নীতিগতভাবে সিপিএফের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আইবিআরডি থেকে নতুন করে কোনো ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হবে বলে আশা করা হচ্ছে না।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ জানায়, পাঁচ বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনা চীনের সঙ্গে তাদের ৪৫ বছরের অংশীদারত্বের নতুন এক পর্যায়ের সূচনা করবে। চীন এখন আর প্রধানত অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং দেশটির প্রয়োজন হচ্ছে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও জ্ঞান বিনিময়।

বিশ্বব্যাংকের পরিচালন বিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনা বিয়েরদে বলেন, ‘আমাদের অংশীদারত্বের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমরা ক্রমেই জ্ঞান, উদ্ভাবন ও যৌথ সমাধানের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের অর্থনীতির দ্রুত প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্যের হার কমে আসার কারণে দেশটিতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ দেওয়ার পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমেছে।

আরও পড়ুনঃ  EduQuest Pvt Ltd, Education Fair 2026.

বিয়েরদে বলেন, ‘চীন যখন বয়স্ক জনসংখ্যা, পরিবর্তনশীল অর্থনীতি এবং অন্যান্য উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তখন আমরা তার সঙ্গে কাজ করে এমন ধারণা ও সমাধান তৈরি করতে চাই, যা শুধু চীন নয়, বিশ্বের অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।’

চীনের উপ-অর্থমন্ত্রী লিয়াও মিন বলেন, ঋণ বিষয়ক সম্পর্কের পরিবর্তন হলেও চীন বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীরভাবে চালিয়ে যাবে।

বিশ্বব্যাংক ও চীনের মধ্যে নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার পাশাপাশি উন্নত কর্মসংস্থান, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং কম কার্বন নিঃসরণভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে চীনকে ঋণ দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  এক সুতোয় জড়াতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: নিউইয়র্ক টাইমস

ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদেও একই ধরনের অবস্থান বজায় রেখেছেন, তবে এবার তিনি সেই দাবিটির পুনরাবৃত্তি করেননি।

বিশ্বব্যাংকের চীনকে দেওয়া ঋণ ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে ২০২৫ সালে তা কমে ৭৫০ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

এদিকে, বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) তহবিলেও চীন অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে। সর্বশেষ তহবিল পুনর্গঠন কার্যক্রমে চীন ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে। এর ফলে বেইজিং আইডিএর পঞ্চম বৃহত্তম দাতা দেশে পরিণত হয়েছে।