সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক গোপন সফর স্থায়ী হয় মাত্র ছয় ঘণ্টা। এ সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ইরানসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুসালেম পোস্ট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকের আগে কয়েক সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে একাধিকবার টেলিফোনে কথা হয়। আসন্ন নির্বাচনের আগে মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করতে নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে আমিরাতের ওপর চাপ ছিল বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
আমিরাতের কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, ওই চাপ ছিল ‘অস্বাভাবিক রকমের তীব্র’। ঘন ঘন ফোনকলের পাশাপাশি নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতা এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সহযোগিতার নানা ইঙ্গিতের মাধ্যমে এ চাপ তৈরি করা হয় বলে তারা জানান।
এর আগে নেতানিয়াহুর আরেকটি সফরের তারিখও প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত হয়েছিল। সফরটি গোপন রাখার পরিকল্পনা থাকলেও উড়োজাহাজ ছাড়ার ঠিক আগে তা বাতিল করা হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভ-এর একটি সূত্রের দাবি, সে সময় আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানায় মোহাম্মদ বিন জায়েদ দেশে নেই। তবে পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি তখন আবুধাবিতেই ছিলেন।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে মোহাম্মদ বিন জায়েদ নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন—এমন খবরের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা অস্বীকার জানানোর জন্যও নেতানিয়াহু তাকে অনুরোধ করেছিলেন।
গাজা পরিস্থিতি নিয়েও এর আগে মোহাম্মদ বিন জায়েদের সতর্কবার্তার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। ৭ অক্টোবরের কয়েক দিন আগে তিনি নেতানিয়াহুকে গাজায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষ্য, মোহাম্মদ বিন জায়েদ নেতানিয়াহুর নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হতে আগ্রহী নন। একই সঙ্গে দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা শীতল ছিল বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।
সবশেষে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে অব্যাহত যোগাযোগ ও চাপের পর রোববার নেতানিয়াহুর আমিরাত সফর অনুষ্ঠিত হয়। তবে সফর ও বৈঠক নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদকের নাম 


























