পশ্চিম দিল্লিতে রাস্তার কাজ পরিদর্শনের সময় এক যুবককে চড় মারার অভিযোগে দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী ও পূর্তমন্ত্রী প্রবেশ সাহিব সিং বর্মাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিজেপির সমালোচনা করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
রোববার পশ্চিম দিল্লির বিকাশপুরী-তিলক নগর এলাকায় নির্মাণাধীন রাস্তা পরিদর্শনে যান প্রবেশ বর্মা। সেখানে রাস্তার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আম আদমি পার্টির (আপ) বিধায়ক জারনাইল সিং ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা। এ সময় মোবাইলে ঘটনাটি ধারণ করছিলেন সাহেব সিং নামে ২২ বছর বয়সী এক যুবক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রবেশ বর্মা ওই যুবকের মোবাইল নিচে সরিয়ে দেওয়ার পর তাকে চড় মারছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে সেখানে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দেন।
সাহেব সিংয়ের দাবি, তিনি জারনাইল সিংয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দলের সঙ্গে কাজ করেন এবং রাস্তার নিম্নমানের কাজের বিষয়টি ভিডিও করছিলেন। তার অভিযোগ, তিনি কোনো ধরনের গালাগালি করেননি। ঘটনার পর তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়ে প্রবেশ বর্মার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে প্রবেশ বর্মা দাবি করেছেন, ঘটনাস্থলে থাকা আপের কর্মীরা তার পরিবারকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিজের প্রতিক্রিয়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ওই পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পাশাপাশি জারনাইল সিংয়ের বিরুদ্ধে রাস্তার ঠিকাদারের সঙ্গে কমিশনসংক্রান্ত যোগাযোগের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
এ ঘটনায় দুই পক্ষ থেকেই পুলিশের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সাহেব সিংয়ের অভিযোগের পাশাপাশি জারনাইল সিং ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তা ও নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজেপির সমালোচনা করেন। তার বক্তব্য, ক্ষমতাসীনরা ভোটারদের ভয় না পাওয়ার কারণেই এমন আচরণ করার সাহস পাচ্ছে। তিনি ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তুলে দাবি করেন, এর ফলে শুধু নির্বাচনের ফল নয়, ক্ষমতাসীনদের আচরণেও ঔদ্ধত্য তৈরি হয়।
রাহুলের মন্তব্যের পর প্রবেশ বর্মাও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাহুল গান্ধীর এই ঘটনা থেকে দূরে থাকাই ভালো, কারণ তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
রাস্তার মান নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধের পর দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে ঘটনাটি দিল্লির রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 

























