দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ৭ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে বন্যাকবলিত এলাকায় মেডিকেল টিম গঠন, জরুরি ওষুধ ও স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুত, অ্যান্টি-স্নেক ভেনম নিশ্চিতকরণ, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিলের ব্যবস্থা।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দেশের সব বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনরা অংশ নেন।
যা যা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে
🔹 ফোকাল পারসন নিয়োগ
বন্যাকবলিত উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে একজন করে ফোকাল পারসন নিয়োগ দিতে হবে। তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করবেন।
🔹 মেডিকেল টিম ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা
প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী মেডিকেল টিম গঠন করে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
🔹 ওষুধ ও স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুত
সব ধরনের জরুরি ওষুধ, ওআরএস (স্যালাইন), পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম পর্যাপ্ত পরিমাণে সংরক্ষণ করতে হবে।
🔹 সাপের কামড়ের চিকিৎসা নিশ্চিত
অ্যান্টি-স্নেক ভেনম পর্যাপ্ত মজুত রাখতে হবে। প্রয়োজন হলে পাশের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
🔹 গর্ভবতী নারী ও শিশুদের বিশেষ সেবা
গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রয়োজনে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিদের হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহযোগিতা নিতে হবে।
🔹 চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত
বন্যাকবলিত এলাকার সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে তাদের ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
🔹 নিয়মিত তথ্য প্রকাশ
বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনগণকে অবহিত করতে হবে। আগামী ১২ জুলাই এ বিষয়ে একটি বিশেষ প্রেস ব্রিফিং আয়োজনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন এবং বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য)-দের ওপর অর্পণ করা হয়েছে, যাতে বন্যাদুর্গত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়।
প্রতিবেদকের নাম 




















